প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, মন্ত্রিপরিষদের সচিবসহ অন্তত ৯ জন সচিবের চাকরির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এ মাসেই। অতীতে কখনোই গুরুত্বপূর্ণ সচিবের এসব পদ একসঙ্গে শূন্য হওয়ার নজির নেই।
ঐ সব পদে এখন নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে, নাকি সবাইকে চুক্তিতে নিয়োজিত রাখা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তবে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের সামনে যে এক বড়ো চ্যালেঞ্জ, সেটি স্বীকার করছেন তারা।
চুক্তি ও চুক্তির বিপক্ষে সব সময়ই দুটি মত বা পক্ষ প্রবল ছিল। এবারও রয়েছে। কিন্তু এত বেশি সংখ্যায় কর্মকর্তাকে একবারে চুক্তিতে নিয়োগ করাটা দৃষ্টিকটু হয় কি না, সেটিও বিবেচনা করতে হচ্ছে। আবার অধঃস্তন যাদের সচিব হওয়ার যোগ্যতা অর্জিত হয়েছে, তারাও চুক্তির বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে আছেন। যদিও মাঝেমধ্যে দু-একটি চুক্তির ঘটনা ঘটেছে। সূত্র বলছে, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় বা বিভাগে শূন্য হতে যাওয়া মোট পদের ১০ শতাংশের মতো পদে বর্তমান কর্মকর্তাদের চুক্তিতে রাখা হতে পারে বলে জানা গেছে।
জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন গতকাল শনিবার ইত্তেফাককে বলেন, কাজটি চ্যালেঞ্জিং, তবে সমাধান কঠিন হবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শক্রমে সরকারের পক্ষে ভালো বিবেচনা করে যেটি করার সেটিই করা হবে।
সূত্র জানায়, ব্যাপক সংখ্যায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোভাব নেতিবাচক। শেষ পর্যন্ত তার এই মনোভাবের পরিবর্তন না হলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিদায় নিতে হবে।
ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) আবুল কালাম আজাদ অবসর নিয়েছেন। যদিও এমন আলোচনা রয়েছে যে তাকে অন্য কোনো ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে যুক্ত রাখা হতে পারে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস অবসরে যাবেন আগামী ৯ ডিসেম্বর। ইতিমধ্যে এই মন্ত্রণালয়ে ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মো. নূর-উর রহমানকে বদলি-পূর্বক নিয়োগ করা হয়ে গেছে। সচিব পদমর্যাদায় সেখানে ১৯৮৬ ব্যাচের তপন কুমার ঘোষকে নিয়োগ করা হয়েছে।
আগামী ১৫ ডিসেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের চাকরির মেয়াদ শেষ হবে। অতীতের নজির অনুসরণ করলে এই পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হতে পারে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আগামী ৩০ ডিসেম্বর অবসরে যাচ্ছেন। এই পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হবে কি না, সেটি নিয়ে নানা মত রয়েছে প্রশাসনের অন্দরমহলে। শিক্ষাসচিব সোহরাব হোসাইন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জুয়েনা আজিজ, জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমেদ, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রইসুল আলম মণ্ডল ৩১ ডিসেম্বর অবসরে যাবেন। আগামী ২০ ডিসেম্বর খাদ্যসচিব শাহাবুদ্দিন আহমেদের চাকরির মেয়াদ শেষ হবে। এ ছাড়া আগামী নতুন বছরের শুরুতে, অর্থাত্ জানুয়ারিতে আরো আট জন সচিবের চাকরির মেয়াদ শেষ হবে।
সূত্র জানায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে কিছু কাজ গুছিয়ে রেখেছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা-পরামর্শ শেষে চূড়ান্ত করবে সবকিছু। তবে ঢালাও চুক্তির পথ বন্ধ হচ্ছে—এরকম নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে নীতিনির্ধারক মহল থেকে।
