জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, পাকিস্তানপন্থার রাজনীতি তথা সাম্প্রদায়িক-মৌলবাদী-জঙ্গিবাদী-সন্ত্রাসবাদী রাজনীতি ও তাদের পৃষ্ঠপোষক জামায়াত-বিএনপিকে রাজনীতির মাঠ থেকে চিরতরে বিদায় করতে হবে। গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের দোহাই দিয়ে দেশবিরোধী এই শক্তিগুলোর প্রতি নমনীয়তা ও ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ কথা রাজনৈতিক বিদ্বেষ না, রাজনৈতিক বাস্তবতা। ইতিহাস ও তথ্য প্রমাণ করে জামায়াত-বিএনপি সুযোগ পেলেই গণতন্ত্রের পিঠে ছোবল হানে। বিএনপি-জামায়াত সাম্প্রদায়িক-জঙ্গিবাদ-মৌলবাদ উত্পাদন পুনরুত্পাদনের কারখানা। গতকাল শনিবার ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে জাসদের সহযোগী সংগঠন জাতীয় যুব জোটের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
ইনু বলেন, বর্তমান জাতীয় ও বিশ্ব পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে সেখান থেকে আরেক ধাপ অগ্রগতি ও জাতীয় উল্লম্ফনের জন্য ৯টি বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ জাতীয় প্রচেষ্টা জরুরি। রাজনীতির বাইরে গিয়ে দেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন ঘটিয়ে জাতীয় উল্লম্ফনের জন্য দুর্নীতি-ক্ষমতার অপব্যবহার-লুটপাটের দুষ্টচক্র ধ্বংস করে সুশাসন ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতিবাজ-ক্ষমতার অপব্যবহারকারী-লুটেরারা ধরাছোয়ার বাইরে না—এটা প্রমাণ করতেই হবে। দেশে রাজনৈতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য মুক্তিযুদ্ধসহ অতীতের সকল ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে মীমাংসিত বিষয়সমূহকে অমীমাংসিত করার সকল অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, সংবিধান পর্যালোচনা করে সংবিধান থেকে অসংগতি ও গোঁজামিল দূর করতে হবে। রাজনীতিতে ভারসাম্য তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য মুক্তবাজার অর্থনীতির ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না। নিত্যপণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনায় পরিকল্পনাহীনতার সুযোগ নিয়ে বাজার সিন্ডিকেট যেন আর কারসাজির সুযোগ না পায় সে জন্য পরিকল্পনা নিতে হবে। জাতীয় যুব জোটের সভাপতি রোকনুজ্জামান রোকনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি, কার্যকরী সভাপতি অ্যাড. রবিউল আলম এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও জাসদ স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন।
