ভ্যাট আদায়ে কঠোর হচ্ছে এনবিআর

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:১৪

সরকারের রাজস্ব আদায়ে প্রত্যাশিত গতি নেই। অর্থবছরের শুরুতে কার্যকর হওয়া নতুন ভ্যাট আইন নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মাঠ পর্যায়ে বড়ো ধরনের কার্যক্রম শুরু করেনি। মূলত ব্যবসায়ীদের মধ্যে যাতে ভীতি না ছড়ায়, সেজন্যই সতর্ক থেকেছে এনবিআর। কিন্তু রাজস্ব আদায়ে গতি না আসায় এবার কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা অনুরোধ করব। পরবর্তীতে আইন প্রয়োগ করা হবে। তখন যেন বলা না হয়, হয়রানি করা হচ্ছে।’ গতকাল রবিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আগামীকাল মঙ্গলবার জাতীয় ভ্যাট দিবসের কার্যক্রম উপলক্ষ্যে ঐ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘নতুন ভ্যাট আইন নিয়ে যাতে ভীতি না ছড়ায়, ভ্যাট হার যাতে সহনীয় থাকে—এজন্য ভ্যাটের বিভিন্ন হার ঠিক করেছি। অনেক জায়গায় ছাড় দেওয়া হয়েছে। ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক বিক্রি (টার্নওভার) ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এখন অনেকেই নিজেদের ছোটো ব্যবসায়ী হিসেবে দেখাতে চাইছেন। কেউ কেউ মাসে দেড় কোটি টাকা বিক্রি করেন, হয়তো বলেন দেড় লাখ টাকা। ব্যবসায়ীদের বুঝতে হবে, আদায় করা টাকা সরকারের। কর্মকর্তাদেরও বুঝতে হবে, এই টাকায় আমার নিজের কোনো অংশ নেই। মাস শেষে বেতন পাচ্ছি। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের যথেষ্ট সুযোগ দিয়েছি।’  

তিনি বলেন, পৃথিবীর আর কোনো দেশে শুল্ক থেকে এত বেশি হারে রাজস্ব আদায় হয় না। ব্যবসায়ীদের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি আমদানিতে নামমাত্র শুল্ক আদায় করা হয়। গার্মেন্টস খাত তো কথাই নেই। সবচেয়ে কম কর। পৃথিবীর কোনো দেশে এটি নেই। ভিয়েতনাম, ভারতের চেয়ে কোনো অংশে কম সুযোগ দিচ্ছি না। দুই বছরে যে পরিমাণ সহায়তা দিয়েছি, বাজেট পাশ হওয়ার পরও অনেক ছাড় দিয়েছি। যেখানেই অসুবিধা হয়েছে, অর্থমন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে কমিয়েছি। তবুও এনবিআরকে দায়ী করা দুর্ভাগ্যজনক।

রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আদায় কম হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। তবে গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে তিন হাজার কোটি টাকা বেশি। আমদানি, রপ্তানি কমে যাওয়া, ঝুঁকির কারণে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি না হওয়া, বেশকিছু খাতে অব্যাহতিসহ রাজস্ব আদায়ে প্রত্যাশিত গতি না আসার পেছনে বেশকিছু কারণ তুলে ধরেন। তবে অর্থবছর শেষ নাগাদ রাজস্ব আদায় ১০ শতাংশের বেশি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। ভ্যাট আদায়ে প্রত্যাশিত গতি না আসা নিয়ে অর্থমন্ত্রীর একটি বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘স্যারের হতাশ হওয়ার কারণ নেই। ভ্যাট আদায়ে এরই মধ্যে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।’

দেশে ৪৬ লাখ করদাতা শনাক্তকরণ নম্বরধারীর (ই-টিআইএন) মধ্যে রিটার্ন দাখিল হয়েছে ২২ লাখ। এটি প্রত্যাশিত নয় উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, টিআইএনধারী প্রত্যেকের সঙ্গে যোগাযোগ করে কর প্রদানে সক্ষমদের রিটার্ন দাখিলে বাধ্য করা হবে। এজন্য এরই মধ্যে কর্মকর্তাদের কাজে লাগানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাতীয় ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ উপলক্ষ্যে মতবিনিময় সভা এবং সর্বোচ্চ ভ্যাট প্রদানকারীকে সম্মাননা প্রদান করা হবে। এছাড়া ভ্যাট সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে পোস্টার, স্টিকার, বিলবোর্ড, ফেস্টুন, ব্যানার ও ভবন সুসজ্জিতকরণসহ গণমাধ্যমে বিভিন্ন প্রচারণামূলক অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে এনবিআরের ভ্যাট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।