বায়ুদূষণ রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৪৩

আব্দুস সালাম

বায়ু দূষণ পরিবেশের জন্য একটি মারাত্মক ক্ষতিকর দিক যা বাংলাদেশে দ্রুতই বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বৈশ্বিকভাবে পরিসংখ্যানে লজ্জাজনক অবস্থান অর্জন করছে। যা দেশের জনসাধারণের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। কেননা যেখানে শতভাগ লোকের জন্য মানসম্মত ন্যূনতম চিকিত্সা নিশ্চিত করাই দুরূহ হয়ে দাঁড়িয়েছে সেখানে নিত্যনতুন রোগজীবাণু বৃদ্ধি অবশ্যই  উদ্বেগের কারণ। কিন্তু এ অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতেই হবে, নইলে পুরো দেশের ক্ষতি বৃদ্ধি পাবে। কেননা প্রতি বছর দূষণের কারণেই হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। একটি পত্রিকা থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের বিভিন্ন কারণে মৃত্যুর মধ্যে পরিবেশ দূষণেই প্রায় ২৮ শতাংশ লোক মারা যাচ্ছে।

এছাড়াও বায়ু দূষণের সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য দূষণও বাড়ে এবং আবহাওয়া ও জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটে। অবস্থানগত কারণেই বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি অনেক বেশি, যার প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে এসব সমস্যার সমাধান না হলে অধিক ক্ষতির মুখোমুখি আমাদেরই হতে হবে।

সমস্যা যত কঠিনই হোক বের হয়ে আসাই হবে sustainable development. সাধারণত যেসব কারণে বায়ু দূষণ হচ্ছে তা হলো: ১. রাস্তাঘাটে খনন করে মাটি উন্মুক্ত রাখা। ২. বেহাল রাস্তাঘাট। ৩. কনস্ট্রাকশন। ৪. উন্মুক্তভাবে মাটি-বালি পরিবহন। ৫.ইট ভাটা। ৬. অপরিকল্পিত বর্জ্য ফেলা ও রাখা। ৭. বৃক্ষ নিধন ইত্যাদি।

বায়ু দূষণের ফলে নানা রকম রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে, যেমন: ক্যানসার, হূদরোগ, হাইপারটেনশন, যক্ষ্মা, চক্ষুরোগ ইত্যাদি, যার ফলে শিশুদের বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে, গর্ভবতী নারীদের শারীরিক ক্ষতি হচ্ছে, চিন্তা-ভাবনায় প্রভাব ফেলা ছাড়াও অনেক ক্ষতি। এছাড়াও খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে নানা রকম দূষণ ভিতরে ঢুকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করছে। বায়ু দূষণের সমাধানের পথগুলো হতে পারে—

১. সচেতনতা বৃদ্ধি করা, ২. বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া, ৩. পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ৪. কনস্ট্রাকশনের কাজে নিয়মনীতি, ও সময়সীমা বেঁধে দেওয়া, ৫. ইটভাটা ও কল-কারখানার জন্য কার্বন ট্যাক্স বসানো। অধিকহারে বৃক্ষরোপণ ইত্যাদি। এজন্য আমাদের প্রথমে দরকার পরিবেশবিদদের সমন্বয়ে কারণ অনুসন্ধান করা। তারপর তার সমাধানের পথে এগিয়ে আসা। তাহলে বায়ু দূষণসহ পরিবেশ দূষণ অনেকাংশে কমে আসবে, রোগজীবাণু কম হবে, চলাচলের সুবিধা হবে, সৌন্দর্যও বাড়বে, সার্বিকভাবে দেশের আর্থিক অবস্থা সমুন্নত এবং sustainable development অর্জিত হবে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, 

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর