ফরিদা জামানের ক্যানভাসে দেশ মানুষ প্রকৃতি

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৪৬

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বাংলাদেশের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ফরিদা জামানের একক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী শুরু হয়েছে জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী মিলনায়তনে। রয়েছে চিত্রকর্ম ও স্থাপনাশিল্প। প্রদর্শনীর শিরোনাম ‘ফর দ্য লাভ অব কান্ট্রি’। গ্যালারিজুড়ে যেন সেই ভালোবাসার বাংলাদেশের কথাই বলেছেন শিল্পী। ছবিতে উঠে এসেছে আবহমান বাংলার জীবন ও প্রকৃতি। শিল্পী ফরিদা জামানের ক্যানভাসে উঠে এসেছে বাংলার মানুষের আটপৌরে জীবনচিত্র। আধা বিমূর্ত রীতিতে শিল্পী প্রকৃতি ও প্রাণীর সমান্তরালে নাগরিক দৈনন্দিন জীবনের মাঝে খুঁজেছেন জীবনের মানে। এঁকেছেন সুফিয়া সিরিজের কয়েকটি ছবি। এই সিরিজের চিত্রকর্মগুলোয় উঠে এসেছে সংগ্রামী নারীর প্রতিচ্ছবি। নিরন্তর লড়াই করে জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার  কথা বলে মেদহীন শরীরের হাড্ডিসার দেহখানি। লাল-নীল জমিনের চিত্রপটে উদ্ভাসিত গ্রাম থেকে শহরে আসা সুফিয়ার চারপাশ ঘিরে রয়েছে পাখপাখালি আর শাপলা-শালুক।

শিল্পী ফরিদা জামান বলেন, আমি খুব সাধারণ জীবনযাপনে বিশ্বাসী। এটাই আমার দর্শন। ছোটোবেলা থেকেই শখ ছিল শিল্পী হবার। তাই গাছপালা, ফুল-পাখি টানতো ভীষণ। কল্পনার বাস্তব আবার বাস্তবের কল্পনা মিলেমিশে একাকার হয়ে যেত। ইচ্ছা জাগতো ভালোবাসার সেই অনুভব প্রকাশের। সেখান থেকেই ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহ। ছোটোবেলায় গ্রামে ফেলে আসা বক পাখি, সেই রোমান্টিকতা আর গভীর আবেগে রচিত হয়েছে সুফিয়া সিরিজ। মাছ ও বিড়াল সিরিজে বলেছি আরেক গল্প। নিত্যদিনের সংসারে রান্নাঘরের বারান্দাজুড়ে বিড়ালের ঘুরাঘুরি এবং তার অতৃপ্ত তৃষ্ণা নিয়ে এঁকেছি মাছ ও বিড়াল সিরিজ।

প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে একটি স্থাপনাশিল্প। সেখানে উঠে এসেছে নদীতে জাল দিয়ে মাছ ধরার স্থায়ী কাঠামোর উপস্থাপনা। কালো রঙের ডিঙি, জাল, বাঁশের কাঠামো দিয়ে তৈরি মাছ ধরার ফাঁদ। নান্দনিক স্থাপনাশিল্পটি মন কেড়েছে সকলের। রঙের প্রবাহে ভরপুর শিল্পীর প্রতিটি ক্যানভাস। রং-রেখা আশ্রিত ড্রইংয়ে মিশেছে নিরীক্ষার ছোঁয়া। সাবজেক্টের অনুষঙ্গ হিসেবে অবজেক্ট রূপায়নে কিছু ছবিতে করেছেন ডটের ব্যবহার। প্রদর্শনীর কিউরেটিং করেছেন জীনাত ইকরামুল্লাহ ও মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান। অ্যাক্রেলিক মাধ্যমে চিত্রিত ৩০টি চিত্রকর্মে সাজানো শিল্পায়োজনটির সূচনা হয় শুক্রবার। উদ্বোধনী দিনে প্রকাশিত হয় শিল্পীকে নিয়ে মার্টিন ব্রাডলি রচিত একই শিরোনামের বই। ছয় দিনব্যাপী আয়োজন শেষ হবে ১১ ডিসেম্বর। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০ থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত উপভোগ করা যাবে এ প্রদর্শনী।