গণহত্যার অভিযোগের জবাব দিতে হেগের পথে সু চি

গণহত্যার অভিযোগের জবাব দিতে হেগের পথে সুচি মিয়ানমারে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:২৩

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) আনা রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলার শুনানিতে মিয়ানমারের পক্ষে নিজেই দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি। গতকাল রবিবার তিনি মিয়ানমার ত্যাগ করেন। খবর :বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ানের।

গত ১১ নভেম্বর অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওআইসি) সমর্থনে পশ্চিম আফ্রিকার ছোটো দেশ গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ আনে। ঐ মামলার বিপক্ষে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন মিয়ানমারের কার্যত সরকার প্রধান সু চি। এই সিদ্ধান্তের পর দেশটিতে সমর্থন আর অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসছেন শান্তিতে নোবেল জয়ী এই রাজনীতিক।

দ্য হেগে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত আইসিজেতে মঙ্গলবার থেকে চার দিন ধরে এই মামলার শুনানি চলবে। মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সু চিকে সাহায্য করতে একদল ‘খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক’ আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। এই আইনজীবী কারা—তা অবশ্য প্রকাশ করা হয়নি।

মন্ত্রী বা কর্মকর্তাদের না পাঠিয়ে নিজে কেন আন্তর্জাতিক আদালতের মুখোমুখি হচ্ছেন সু চি? এ বিষয়ে বার্মিজ দৈনিক ইরাবতি সম্প্রতি এক সম্পাদকীয়তে লিখেছে, আইন নিয়ে তার কোনো বিশেষ অভিজ্ঞতা না সত্ত্বেও সু চি নিজে আদালতে দাঁড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং তার এই সিদ্ধান্ত সুপরিকল্পিত। তিনি জানেন ‘বামার’ সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধরা তার পাশে রয়েছে। আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য ডিপ্লোম্যাট বলছে, সু চির এই সিদ্ধান্তের পেছনে ক্ষমতাসীন দল এনএলডির জনসমর্থন বাড়ানোর উদ্দেশ্য থাকা অসম্ভব কিছু নয়। এরই মধ্যে মিয়ানমারে হাজার হাজার মানুষ গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন শহরে গণহত্যার মামলায় সুচির পক্ষে সমাবেশ করছে।   

এদিকে মিয়ানমারে সু চির সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। আন্তর্জাতিক আদালতে শুনানি শুরুর ঠিক আগেই চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই মিয়ানমার সফরে যান। শনিবার নেপিদোতে তিনি সু চির সাথে একান্তে বৈঠক করেছেন।