চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের বাস্তব সুফল নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‘কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’—অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল রবিবার আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস-২০১৯ উপলক্ষ্যে আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
দিবসটি উপলক্ষ্যে টিআইবি রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবন সম্মুখে এবং দেশের ৪৫টি অঞ্চলে স্থানীয় পর্যায়ে টিআইবির অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) মানববন্ধনের আয়োজন করে। ঢাকায় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানসহ টিআইবি সদস্য ও কর্মীবৃন্দ, টিআইবির অনুপ্রেরণায় ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তরুণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত ইয়েস গ্রুপের সদস্য ও সমমনা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন সনাক সদস্যবৃন্দ, স্বচ্ছতার জন্য নাগরিক (স্বজন), ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস), ইয়েস ফ্রেন্ডস গ্রুপের সদস্যসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
ইফতেখারুজ্জামান এবারের দুর্নীতিবিরোধী দিবস উদ্যাপনের প্রেক্ষাপটকে ব্যতিক্রমী উল্লেখ করে বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে চলমান অভিযান দেশবাসীর মনে আশার সঞ্চার করেছে। এ অভিযান দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের জন্য উত্সাহব্যঞ্জক। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এ লড়াইয়ের গুরুদায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর একার নয়, এজন্য দুর্নীতি প্রতিরোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানকে কোনো প্রকার ভয় বা করুণার ঊর্ধ্বে থেকে সকল প্রকার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অভিযুক্তদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতপূর্বক দুর্নীতি প্রতিরোধের দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হতে হবে।
মানববন্ধনে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ ও ‘ফরেন ডোনেশনস (ভলান্টারি অ্যাক্টিভিটিস) রেগুলেশন অ্যাক্ট’ এর নিবর্তনমূলক ধারাসমূহ এবং ‘সরকারি চাকরি আইন ২০১৮’ এর বিতর্কিত ধারাসমূহ বাতিল করা; ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি ও জালিয়াতি এবং আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গকে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং এ খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রস্তাবনা প্রণয়নের জন্য একটি স্বাধীন ব্যাংকিং কমিশন গঠন করা; বিচার ব্যবস্থা, প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় সমন্বিত ও পরিপূরক কৌশল গ্রহণ এবং সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান ও সদস্যদের নিয়োগে যোগ্যতার মাপকাঠি নির্ধারণ এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ নিশ্চিত করাসহ বেশ কিছু দাবি জানানো হয়েছে।
