‘সত্য বললে সরকারের ঘাড়ে যাবে আর না বললে পাবলিকের গালি খাব’ -------------------শাজাহান খান

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:১৫

সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, সত্য কথা বললে তা সরকারের ঘাড়ে যাবে। সত্য না বলে তার বদহজম হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, এখন কিছু সত্য না বললে পাবলিকের গালি খেতে হবে। গতকাল রবিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সড়কে দুর্ঘটনা ও সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে বক্তৃতায় প্রসঙ্গটি উঠে আসে। তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরেই অনেক কিছু হজম করেছি। এখন বদহজম হয়ে গেছে। সেজন্য কিছু সত্য কথা বলতে হবে। তবে সত্য বললে সরকারের ঘাড়ে যাবে, নয়তো বিআরটিএর ঘাড়ে যাবে। আর না বললে আমরা পাবলিকের গালি খাব।’

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শাজাহান খান আরো বলেন, ‘একটা কথা আছে—যত দোষ নন্দ ঘোষ। সড়কে অ্যাক্সিডেন্ট হলেই দোষ ড্রাইভারের। একসময় দেখেছি, সড়কে অ্যাক্সিডেন্ট হলেই প্রেসক্লাবের সামনে আমার কুশপুতুল পোড়ানো হতো। অ্যাক্সিডেন্ট হলেই নাকি শাজাহান খান দায়ী!’ তিনি প্রশ্ন করেন, ‘কী কারণে? আমি নাকি চালকদের প্রশ্রয় দিই, আশকারা দিই। আমি বুঝলাম না, আমি কীভাবে আশকারা দিলাম!’

বিআরটিএকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যদি সড়কে শৃঙ্খলা আনতে হয়, তাহলে জাল লাইসেন্সধারীদের প্রথমে ধরতে হবে। তিনি বলেন, ‘জাল টাকা ছাপানোর মেশিন, জাল পাসপোর্ট ছাপানোর মেশিন মাঝে মাঝে ধরা পড়ে। আপনারা কি কেউ বলতে পারবেন, ভুয়া লাইসেন্স ছাপানোর মেশিন কখনো ধরা পড়েছে? অপরাধীরা সব মুখ লুকিয়ে আছে বিআরটিএর মধ্যে। ওনাদের মধ্যে গিয়ে যদি এই লোকগুলো মুখ লুকিয়ে থাকে, তাহলে কীভাবে এদের ধরবে?’

বিআরটিএর লোকবলের সংকটের কথা তুলে ধরে শাজাহান খান বলেন, ‘বিআরটিএতে কম করে হলেও ৩ হাজারের মতো কর্মকর্তা-কর্মচারী দরকার। কিন্তু ওনাদের আছে মাত্র ৮২৩ জন। এই জনবল দিয়ে বিআরটিএ কীভাবে চলবে?’

এ সময় ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর নামে নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন কোটি কোটি টাকা আত্মসাত্ করে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন দাবি করে শাজাহান খান বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ নামক এনজিওর মাধ্যমে বিদেশিদের কাছ থেকে এ পর্যন্ত ইলিয়াস কাঞ্চন কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এই অবৈধ অর্থ দিয়ে বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং স্কুলও করেছেন।

সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী আরো বলেন, ‘ইলিয়াস কাঞ্চন  কোন কোন খাত থেকে কী বাবদ কত টাকা পান এবং সেখান থেকে অর্জিত টাকার কতখানি নিজে নেন তা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে। এছাড়া তার পুত্র ও পুত্রবধূর নামে যেভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন, সেই হিসাবও সর্বসমক্ষে তুলে ধরা হবে। এই সড়ক পরিবহন নেতা আরো বলেন, নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন একজন জ্ঞানপাপী। এ পর্যন্ত কতজন পরিবহন শ্রমিকের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা তিনি করেছেন, তার তথ্যও উদ্ঘাটন করা হচ্ছে।

ড্রাইভার্স ট্রেনিং সেন্টারের (ডিটিএস) চেয়ারম্যান নুর নবী সিমুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান কামরুল আহসান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) চেয়ারম্যান এহছানে এলাহী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এআরআই) সহকারী অধ্যাপক সাইফুন নেওয়াজ, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী প্রমুখ।