ইত্তেফাক রিপোর্ট
তথ্য গোপন বা ভুল তথ্য দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংককে জরিমানা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর এ ব্যাংক তথ্য না দেওয়ার কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তালিকা থেকে বাদ পড়েন একজন ঋণখেলাপি। পরবর্তী সময়ে রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হন ঐ ঋণখেলাপি। পরে গণমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক তার অ্যাওয়ার্ড ফিরিয়ে নেয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংককে জরিমানা করা হয়েছে।
জানা গেছে, এ ঘটনায় বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংককে প্রথমে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে ব্যাংকটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জরিমানার পরিমাণ কমিয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়। এরপরও এ ২ লাখ টাকা জরিমানা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছে ব্যাংকটি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন এ জরিমানা মওকুফ করার কোনো সম্ভাবনা নেই। আর ব্যাংকটি যদি স্বেচ্ছায় জরিমানার অর্থ না দেয় তাহলে ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের থাকা ঐ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ কেটে নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের শীর্ষ ঋণখেলাপি মো. শাহজাহান বাবলু। বর্তমানে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকেন। তার কাছে ব্যাংকের পাওনা ১৮৪ কোটি টাকা; কিন্তু বৈধ পথে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) পাঠানোয় গত ৭ অক্টোবর ৩৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাদের মধ্যে একজন মো. শাহজাহান বাবলু।
ঋণখেলাপি মো. শাহজাহান বাবলুকে রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার খবর গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ফেরত নেওয়ার ঘোষণা দেয় বাংলদেশ ব্যাংক। শাহজাহান বাবলুকে দেওয়া ক্রেস্ট, সনদ ও স্মারকমুদ্রা সব ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
শাহজাহান বাবলু কুমিল্লা ভিত্তিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘এসবি গ্রুপ’-এর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার বিরুদ্ধে সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে মাটির তৈরি টেরাকোটা টাইলস রপ্তানি করেন। এসব কারসাজি হয় বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের মাধ্যমে।
