স্পোর্টস রিপোর্টার
ভারত সফরের টি-২০ ও টেস্ট দলে রাখা হয়েছিল মুস্তাফিজুর রহমানকে। তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজে উইকেটশূন্য ছিলেন বাঁহাতি এই পেসার। সফরের বাকি সময়ে টেস্ট দলের সঙ্গী হয়ে সাইডবেঞ্চে সময় কেটেছে মুস্তাফিজের। ভারত সফরে দুই টেস্টের (ইন্দোর, কলকাতা) একটিতেও একাদশে সুযোগ হয়নি তার।
ফিট থাকার পরও মুস্তাফিজকে টেস্ট দলের একাদশে বিবেচনা করেনি টিম ম্যানেজমেন্ট। ভারতের মাটিতে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে এবাদত হোসেন, আবু জায়েদ রাহী, আল-আমিন হোসেনদের উপরই ভরসা করেছিল বাংলাদেশ। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে অটোমেটিক চয়েসই বলা যায় তাকে। কিন্তু টেস্টে মুস্তাফিজের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না টিম ম্যানেজমেন্ট। তাই তো সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ‘কাটার মাস্টার’ খ্যাত এই তরুণের ভবিষ্যত্ নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেছে।
মাত্র ১৩ ম্যাচেই কি আটকে থাকবে মুস্তাফিজের টেস্ট ক্যারিয়ার? চলতি বছর মার্চে নিউজিল্যান্ড সফরে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছেন তিনি। এরপর টানা তিন টেস্টে খেলা হয়নি এই তরুণের।
নিকট ভবিষ্যতে লাল বলের ক্রিকেটে মুস্তাফিজের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কমে এসেছে। কারণ টিম ম্যানেজমেন্ট টেস্টের পেস আক্রমণ নতুন করে গঠন করার পরিকল্পনা করেছে। যেখানে ঠাঁই হচ্ছে না মুস্তাফিজের। ওয়ানডে, টি-২০র জন্যই এই তরুণকে ব্যবহার করতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। অন্তত পাঁচ জন ভালো পেস বোলার চান কোচ-অধিনায়করা। এবাদত, রাহী, খালেদ, আল-আমিনদের সঙ্গে উদীয়মান হাসান মাহমুদ, মুকিদুল ইসলামদের প্রতিও নজর রাখা হচ্ছে।
ভারত সফরে টেস্ট খেলতে না পারলেও হতোদ্যম নন মুস্তাফিজ। বল হাতে ছন্দে ফেরাই এখন তার মূল লক্ষ্য। বিপিএলের সপ্তম আসরে নিজের সেরাটা দিতে চান তিনি। তাই আপাতত টেস্ট নিয়েও ভাবছেন না তিনি।
গতকাল জানতে চাইলে মুস্তাফিজ বলেন, ‘বোলিং ঠিক হয়ে গেলে সব বলেই খেলতে পারব। সব জায়গাতেই দলে নেবে। এখন আমার সময়টা ভালো যাচ্ছে না। খারাপ সময় বলে চিন্তার কিছু নেই। এটা ভালো। ভালো-খারাপ সময় আসবেই।’
টেস্ট খেলতে মুস্তাফিজের অনাগ্রহ নেই। একাদশে সুযোগ হয়নি বলেই ভারতের মাটিতে সর্বশেষ সফরে টেস্ট খেলা হয়নি তার। ইন্দোরে না খেললেও কলকাতায় গোলাপি বলে তাকে দেখার আশা করেছিলেন অনেকেই। মুস্তাফিজ বলেন, ‘খেলা হয়নি, এটা নিয়ে বসে থাকার কিছু নেই। টেস্টে নাকি কয়েক জনকে নিয়ে আলাদা পেস আক্রমণ তৈরি করা হবে। যা হয় হোক, দেখি সামনে ভালো কিছুও হতে পারে।’
ভারত সফরের দুই টেস্টে বাঁহাতি এই পেসারের সুযোগ না পাওয়ার কারণ ফিটনেস, ইনজুরি নয়। মূলত ফর্মহীনতার কারণেই একাদশের বাইরে ছিলেন তিনি। জানা গেছে, এমনকি দলের টেস্টের চিন্তাতেই এখন আর মুস্তাফিজের ঠাঁই নেই।
জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু গতকাল বলেন, ‘ভালো বোলিং করতে হবে। আগে ফর্মটা ফিরে পেতে হবে। বিপিএলে ভালো করতে হবে ওকে।’
বিপিএলে এবার রংপুর রেঞ্জার্সের হয়ে খেলবেন মুস্তাফিজ। সম্প্রতি আইপিএলে খেলার অনুমতি পেয়েছেন বিসিবি থেকে। আগামী বছর দল পেলে আইপিএলে খেলতে পারবেন তিনি। তবে একই সময়ে বাংলাদেশের আয়ারল্যান্ড সফর থাকায় আইপিএলে খেলার সুযোগ নাও পেতে পারেন ২৪ বছর বয়সি এই পেসার।
বিপিএলে মুস্তাফিজের সেরাটা পাওয়ার আশায় আছে রংপুর রেঞ্জার্সও। দলটির কোচ ও’নেল গতকাল বিসিবি একাডেমি মাঠে অনুশীলনের পর বলেছেন, ‘আজকে (গতকাল) মুস্তাফিজ দুই ঘণ্টা বোলিং অনুশীলন করেছে। সে দারুণ বোলিং করেছে। সে কীভাবে আসর শুরু করে সেটাই এখন দেখার বিষয়। টি-২০ ক্রিকেটে সে যথেষ্ট অভিজ্ঞ বোলার। সে খুব ভালোভাবেই জানে যে তার কী করা লাগবে।’
