জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, উগ্রবাদী হয়ে কেউ জন্ম নেয় না। নানা অনিষ্পত্তিমূলক বিরোধ পরিস্থিতি তাদের বিপথগামী করে। সারা বিশ্বের সব সফলতার জন্য উগ্রবাদ আজ হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। উগ্রবাদ মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে উগ্রবাদ দমনে সবার আগে সন্ত্রাসী অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে। গতকাল সোমবার রাজধানীর কুড়িলে বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে ‘উগ্রবাদবিরোধী জাতীয় সম্মেলন-২০১৯’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন যৌথভাবে আয়োজন করে সিটিটিসি, ইউএস-এইড এবং ইউএন।
স্পিকার বলেন, উগ্রবাদবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করতে হলে সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। এক্ষেত্রে উগ্রবাদবিরোধী জাতীয় সম্মেলনসহ অন্যান্য কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। তিনি বলেন, সহিংসতা ও উগ্রবাদ বৈশ্বিক সমস্যা। কোনো একটি দেশ এককভাবে জঙ্গিবাদ মোকাবিলা করতে পারবে না। এর চেয়ে বড়ো বাস্তবতা হচ্ছে, সারা বিশ্ব জঙ্গিবাদ-উগ্রবাদ-সহিংসতার সম্মুখীন। উগ্রবাদ ও সহিংসতা থেকে নিজেদের সুরক্ষার জন্য নিজের দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে অন্য দেশে, অর্থাত্ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ফোরামগুলোতে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, এ ব্যাপারে পুরো বিশ্বে একটি কনসেপ্ট বা ঐকমত্য আছে। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদে জড়িতরা দেশের শত্রু, সভ্যতার শত্রু, মানবতার শত্রু। আজকে সারা বিশ্বে জঙ্গিবাদ, সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদ শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। টেরোরিজম এক্সট্রিমিজম ভায়োলেন্স কোনোভাবেই সারা বিশ্বের কাছে আর গ্রহণযোগ্য নয়, সেটা আজ স্পষ্ট। সে জন্য আমাদের ব্যক্তিগতভাবে, সমষ্টিগতভাবে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ-সহিংসতার বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে। বিভিন্ন কনসেপ্ট কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, জাতিসংঘ কর্তৃক একটি গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজি ২০০৬ সালে গ্রহণ করা হয়েছে। সারা বিশ্বের নেতারা ঐ গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিতে সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
কীভাবে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটছে, তা আগে চিহ্নিত করার কথা উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, সন্ত্রাসীরা কীভাবে কী কারণে সন্ত্রাসী হয়ে উঠছে? কোনো মানুষ কিন্তু সন্ত্রাসী, জঙ্গি, উগ্রবাদী হয়ে জন্মায় না। তাহলে কী কারণে তারা এই পথ বেছে নেয়, সেটি আমাদের চিহ্নিত করতে হবে, এটা খুবই জরুরি। সেই দিকটি লক্ষ রেখেই গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘসূত্রতার সঙ্গে যদি কোনো বিরোধ চলমান থাকে, তাহলে এ ধরনের উগ্রবাদের জন্ম হতে পারে। যেহেতু মানুষ উগ্রবাদী ও জঙ্গি হয়ে জন্মায় না, সেজন্য জঙ্গিকে কোনো ধর্মের বা কোনো গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। আমরা জানি, সন্ত্রাসী ও জঙ্গির কোনো দেশ নেই, কোনো ধর্ম নেই।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বলেন, তিন বছর আগে উগ্রবাদ এদেশে মাথাচাড়া দিয়েছিল। পরে সবার সম্মিলিত চেষ্টায় সেই পরিস্থিতির উত্তরণ হয়েছে। তবে উগ্রবাদবিরোধী এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া উগ্রবাদ দমন সম্ভব নয়। বিশেষ অতিথি মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর মিলার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার উগ্রবাদ প্রতিরোধে ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করছে। উগ্রবাদ দমনে ইতিমধ্যে ৩৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরো সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রস্তুত রয়েছে।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, সমন্বয়ের মাধ্যমে উগ্রবাদবিরোধী কাজ করার জন্য প্ল্যাটফরম তৈরি হয়নি। এই সম্মেলনের মাধ্যমে তা শুরু হলো। আলোচনার মাধ্যমে উগ্রবাদ দমন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই আইনগত ব্যবস্থার মাধ্যমে পুনর্বাসন কার্যক্রম চালিয়ে বিপথগামীদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে হবে।
