দেশের জনগণের অর্থ আত্মসাত্ করে অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের সুখে থাকতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল সোমবার সকালে দুদক কার্যালয়ে দুদক আয়োজিত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনী শেষে তিনি এ কথা বলেন। ইকবাল মাহমুদ বলেন, জনগণের সম্পদ অবৈধভাবে দখল করে যারা সুখ-শান্তিতে বাস করছেন, তাদের বলতে চাই-দুদক সে ব্যবস্থা রাখবে না। তারা (দুর্নীতিবাজরা) যেখানেই থাকুক না কেন, দুদক তাদের পেছনে রয়েছে। তাদের অবৈধ অর্জন দুদক শান্তিতে ভোগ করতে দেবে না।
সবাইকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতি শুধু বাংলাদেশের একক সমস্যা নয়, এটি বৈশ্বিক সমস্যা। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এ জাতীয় সমস্যা একক দেশ বা একক প্রচেষ্টায় নির্মূল করা কঠিন। তাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ছাত্র-শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ, সরকার, মিডিয়াসহ সকলের সমন্বিত ও পূর্ণ আন্তরিকতা নিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।
‘আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ’ এ প্রতিপাদ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন করছে। এর অংশ হিসেবে দুর্নীতিবিরোধী কার্টুন প্রদর্শনী ও গণস্বাক্ষরতার আয়োজন করেছে দুদক। এর আগে সকালে কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ কমিশনারদের সঙ্গে নিয়ে জাতীয় পতাকা এবং কমিশনের পতাকা উত্তোলন করেন। উদ্বোধনের পর পরই কমিশনের মিডিয়া সেন্টারে রক্ষিত রেজিস্টারে নিজ স্বাক্ষরের মাধ্যমে দুর্নীতিবিরোধী গণস্বাক্ষর কর্মসূচি এবং পোস্টার ও কার্টুন প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন দুদক চেয়ারম্যান। ৯ ডিসেম্বর হতে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত সর্বসাধারণের স্বাক্ষরের জন্য দুুদক মিডিয়া সেন্টারে রেজিস্টারে উন্মুক্ত রাখা হবে।
পরে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট থেকে শাহবাগ পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে দুর্নীতিবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। অসংখ্য মানুষের উপস্থিতিতে বর্ণাঢ্য এই মানববন্ধনে দুর্নীতিবিরোধী প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার ফেস্টুন শোভা পায়। শুধু ঢাকা নয়, দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় একই সময়ে দুর্নীতিবিরোধী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া সোমবার বেলা পৌনে ১১টায় দিবসটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মূল মিলনায়তনে দুদকের সততা সংঘের সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
