জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান ও পানি সম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, যাদের নির্বাচন করার ক্ষমতা, সামর্থ্য, প্রস্তুতি নেই তারাই বলতে শুরু করেছেন দেশে নির্বাচনের পরিবেশ নেই। মানুষের সমর্থন, দোয়া-আশীর্বাদ তথা আল্লাহর রহমত নিয়েই নির্বাচনে মাঠে আসতে হয়। ঈমানের জোর থাকলে মাঠে থেকে নির্বাচন করতে হবে। ক্ষমতায় থাকাকালে উন্নয়ন না করে, বিরোধী দলকে নির্যাতন-অত্যাচার করে, জেল-জুলুম করে নিজেদের উপর আত্মবিশ্বাস হারিয়ে এখন পরিবেশ নেই, পরিবেশ নেই বলে উচ্চকিত হওয়ার সময় ফুরিয়ে গেছে। এখন আর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবার পথ নেই।
তিনি গতকাল পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার তেলিখালী ইউনিয়ন ও ইকড়ি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও জেপি আয়োজিত দু’টি নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। পিরোজপুর-২ আসনে (ভান্ডারিয়া-কাউখালী-ইন্দুরকানি) ১৪ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টি-জেপি’র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনী প্রতীক বাইসাইকেল মার্কায় জনগণকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, নির্বাচন এলে কিছু দল ও কিছু প্রার্থী ভোটে দাঁড়িয়ে নানা কথা বলেন। নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে দেশের জন্য, মানুষের জন্য, এলাকার জন্য অবদান থাকতে হয়। মানুষের সুখ-দুঃখে, উন্নয়নে, কল্যাণে, সেবা-খেদমতে তাঁদের পাশে থাকতে হয়। আমরা দীর্ঘ ৩৩/৩৪ বছর এই এলাকাসহ দক্ষিণ অঞ্চলের অবহেলিত মানুষের জন্য যথাসাধ্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। শুধু অবহেলিত দক্ষিণ অঞ্চলই নয়, সারা দেশে কম-বেশি আমাদের কাজ করার সুযোগ হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর সরকারে মন্ত্রী হিসাবে তথা ৩৩ বছর সংসদে থাকার সুবাদে মানুষের সাথে আমাদের একটি গভীর সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সে সম্পর্ককে ভিত্তি করেই বারবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাই করতে আমরা চেষ্টা করি। আমরা মানুষকে ঐক্যের কথা বলি, শান্তির কথা বলি, ভাগ্য পরিবর্তনের কথা বলি। সাথে সাথে ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজও করি। ৩৩/৩৪ বছর আগে এই সব দুর্গম অঞ্চলে মানুষের যাতায়াতের একমাত্র বাহন ছিল নৌকা। এখন জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন-গ্রাম সর্বত্রই যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। মানুষ রাস্তা দিয়ে গাড়িতে চলাফেরা করে। এলাকায় বিদ্যুত্ এসেছে, স্কুল-কলেজে পাকা ভবন হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র হয়েছে। গ্রামের শিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত ছেলে-মেয়েরা দূরবর্তী শহর-বন্দরে গিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে।
আনোয়ার হোসেন বলেন, এই অঞ্চলে নদী ভাঙন কবলিত গ্রামগুলো রক্ষার জন্য সাড়ে পাঁচশত কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ চলছে। পার্শ্ববর্তী ইন্দুুরকানিতে ২০০৭ সালের সিডরে বিধ্বস্ত বেড়ীবাঁধ পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। আমরা ঈমান-আমান, সততার সহিত কাজ করি, আমাদেরও ভুল রয়েছে। কেউ পাপ করে ক্ষমতা চাইলে আল্লাহ তা ক্ষমা করেন। আল্লাহতালা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রদান করেন। আল্লাহ যে পর্যন্ত আমাদের দ্বারা কাজ করাবেন সে পর্যন্ত কাজ করে যাবো। এ পর্যন্ত আল্লাহর ইচ্ছায় মাথা উঁচু করে আছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসাবে আমাকে মনোনয়ন দিয়ে ভান্ডারিয়াবাসীকে সম্মানিত করেছেন। এরজন্য তাঁকে এ এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই। আশাকরি ৩০ ডিসেম্বর সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হবে। এই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী মহাজোট করেছেন, বিরোধী দলও জোট-ঐক্যজোট করেছে। যাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হয়, যারা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তাদের এই এলাকার মানুষ ভোট দেবেন না। আমরা যদি মানুষের কল্যাণে অতীতে কাজ করে থাকি তাহলে আমার নির্বাচনী প্রতীক বাইসাইকেল মার্কায় পিরোজপুর-২ আসনের জনগণ অবশ্যই আমাকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠাবেন বলে আশাকরি।
জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আরও বলেন, আমি দীর্ঘকাল ভান্ডারিয়ায় কাজ করছি। এ সময় তেলিখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদ্যপ্রয়াত চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন আমার সহকর্মী হিসাবে সক্রিয়ভাবে সাথে ছিলেন। দীর্ঘ রোগভোগের পর তিন দিন আগে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর মৃত্যু আমাকে গভীরভাবে শোকাহত করেছে। আমি তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করি। এলাকায় মরহুমের অবদান চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তেলিখালী ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবন প্রাঙ্গণে ইউপি সদস্য ও জেপি নেতা মো. আবুল কালামের সভাপতিত্বে এই নির্বাচনী জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ, ভান্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফায়জুর রশীদ খসরু, উপজেলা জেপি’র সদস্য সচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, টুঙ্গীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হাফিজুর রশীদ তারিক, তেলিখালী ইউপি সদস্য বাহাউদ্দিন বাদল, ইউপি সদস্য মো. শাহআলম প্রমুখ। সভার শুরুতে তেলিখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদ্যপ্রয়াত চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেনের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এ সময় মঞ্চে ছিলেন ভান্ডারিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা জাতীয় পার্টির সভানেত্রী ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, ইকড়ি ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির, ভিটাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান খান এনামুল কবির পান্না প্রমুখ। রাতে জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ভান্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি বাস স্ট্যান্ডে পথসভায় বক্তব্য রাখেন। এখানে আরও বক্তব্য রাখেন ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, উপজেলা জেপি’র সদস্য সচিব ও ধাওয়া চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, টুঙ্গীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুর রশীদ তারিক, ইকড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, জেলা পরিষদ সদস্য ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাই হাওলাদার, সাবেক ইউপি সদস্য জেপি নেতা মো. সোয়েব মোল্লা, জেপি নেতা বাদল খলিফা প্রমুখ।
ইত্তেফাক/নূহু
