পুরোপুরি যুদ্ধবিরতি কার্যকরে একমত রাশিয়া ও ইউক্রেন

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২০:৪৫

 বিবিসি

পূর্ব ইউক্রেনে ২০১৯ সালের মধ্যেই পুরোপুরি যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ব্যাপারে একমত হয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন।

সোমবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বৈঠক করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে  বৈঠক শেষে জেলেনস্কি বলেন, আলোচনায় খুব সামান্যই অর্জন হয়েছে। পাঁচ বছর ধরে চলা রুশপন্থি বিদ্রোহীদের সাথে ইউক্রেন বহিনীর যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৩ সহস্রাধিক মানুষ মারা গেছে। পুরোপুরি যুদ্ধবিরতির জন্য মধ্যস্থতা করছিলেন ফ্রান্স এবং জার্মানির রাষ্ট্রপ্রধান।

পুতিন ও জেলেনস্কি বড়োসংখ্যক বন্দি বিনিময়ের ব্যাপারে এবং ইউক্রেনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের ব্যাপারেও একমত হন। যুদ্ধবিরতি মূল্যায়ন করার জন্য চার মাস পরে আবার বৈঠক হবে।

ফ্রান্সের এলিসি প্রাসাদে বৈঠক শেষে পুতিন বলেন সংঘর্ষ কমাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল এই বৈঠক। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের ভেতর দিয়ে পাইপলাইনে রাশিয়ার গ্যাস রপ্তানিতে রাজস্ব নির্ধারণ নিয়ে অচলাবস্থা কেটে গেছে। পাইপলাইনে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে ইউক্রেন। তবে রুশপন্থি যোদ্ধাদের প্রত্যাহার এবং বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নির্বাচন নিয়ে সমঝোতা হয়নি।

প্রেসিডেন্ট পুতিন দোনবাস অঞ্চলকে বিশেষ এলাকা ঘোষণা করার দাবি জানান। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, শান্তির স্বার্থে ভূখণ্ড নিয়ে কোনো আপস করবে না ইউক্রেন। বৈঠকের ব্যাপারে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকোঁ এবং জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল বলেন, আমরা আকস্মিক সমাধান আশা করি না, তবে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে।

ইউক্রেনের মস্কোপন্থি প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নপন্থি প্রতিবাদ বিক্ষোভের জেরে পদত্যাগে বাধ্য হন। এর কয়েক দিন পরই ইউক্রেনের কৃষ্ণ সাগরীয় উপদ্বীপ ক্রিমিয়ায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর দখল করে নেয় রুশপন্থি বন্দুকধারীরা।

রাশিয়া আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের রশি টানাটানির প্রেক্ষাপটে রুশভাষী পূর্ব ইউক্রেনে জ্বলে ওঠে বিদ্রোহের আগুন। এপ্রিলে রুশপন্থি বিদ্রোহী আর সরকারি বাহিনীর মধ্যে বেঁধে যায় পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ। কয়েক মাস পর একটি যুদ্ধবিরতি হলেও তা বিভিন্ন মাত্রায় প্রায়ই ভঙ্গ হচ্ছে। বিদ্রোহীদের সহায়তায় ইউক্রেনের পূর্বাংশে রুশ সেনাদের প্রবেশ বিষয়টিকে জটিল ও বিস্ফোরক করে তোলে। তবে রাশিয়া বরাবরই তার সেনাদের অনুপ্রবেশের অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।