যেসব অঞ্চল মুক্ত হলো এই দিনে

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:২৯

ইত্তেফাক ডেস্ক

আজ ১১ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালের আজকের এই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল হানাদারমুক্ত হয়। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।

কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়া শহর থেকে তিন মাইল দূরে বটতৈল নামক জায়গায় মিত্রবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার নামার সঙ্গে সঙ্গে পাক সেনাদের অসংখ্য জিপ ও ট্যাংক শহরের চৌড়হাসে অবস্থান নেয়। এ সময় জগতি চিনিকলের কাছে অবস্থানরত পাক সেনাদের সঙ্গে মিত্রবাহিনীর প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়। যুদ্ধের এক পর্যায়ে ১১ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া সম্পূর্ণরূপে হানাদারমুক্ত হয়। মুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা জেলা কমান্ড ইউনিটের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ): ১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর খুব সকালে লেফটেন্যান্ট রফিকের নেতৃত্বে প্রায় ৩০-৩৫ জনের মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল বাঙ্গাবাড়ী থেকে গোমস্তাপুর উপজেলা সদর রহনপুর অভিমুখে রওনা হয়। পথে আলিনগর এলাকার মুক্তিযোদ্ধারাও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। এছাড়া মহানন্দা নদী পেরিয়ে বোয়ালিয়া এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা রহনপুরে প্রবেশ করে। মুক্তিযোদ্ধারা রহনপুরে প্রবেশের আগেই পাক সেনারা রহনপুর এ. বি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে গড়ে তোলা সেনা ক্যাম্প গুটিয়ে ট্রেনযোগে পালিয়ে যায়।

হাকিমপুর (দিনাজপুর):এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে শাহাদত বরণ করেন ৩৪৫ জন মুক্তিযোদ্ধাসহ ভারতীয় মিত্রবাহিনী। অবশেষে ১১ ডিসেম্বর শক্রমুক্ত হয় হিলি সীমান্ত এলাকা। দিবসটি পালনে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

নান্দাইল (ময়মনসিংহ):এই দিনে নান্দাইল হানাদারমুক্ত হয়। ১৯৭১ সালের এদিন নান্দাইলে উড়ানো হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।

লাকসাম (কুমিল্লা):এই দিনে মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানি সৈন্যদের হটিয়ে লাকসাম-মনোহরগঞ্জকে শত্রুমুক্ত করে। লাকসামের মুক্তিযোদ্ধারা ও মুক্তি পাগল জনতা বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা উড়িয়ে লাকসামকে মুক্ত ঘোষণা করেন। পাকিস্তানি সৈন্যদের আত্মসমর্পণের পর লাকসামে শুরু হয় মুক্তিকামী জনতার উল্লাস। লাকসাম উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন সংগঠন দিবসটি উপলক্ষ্যে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।