Åমূল্যবৃদ্ধির প্রধান নায়ক পেঁয়াজ : পরিকল্পনামন্ত্রী
Åমূল্যস্ফীতির হার ৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে
Åশহরের তুলনায় গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেশি
ইত্তেফাক রিপোর্ট
গেল নভেম্বর মাস জুড়ে দেশে পেঁয়াজ, রসুন, আদার সঙ্গে দাম বেড়েছে শাকসবজি—যেমন আলু, পটল, চিচিংগা, ঢ্যাঁড়শ, শসাসহ মসলাজাতীয় খাদ্যপণ্যের। সেইসঙ্গে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের খরচও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। ফলে নভেম্বর মাসে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে হয়েছে ৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। এর আগে ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে ৬ শতাংশের ওপরে ছিল মূল্যস্ফীতির হার। এর পর মূল্যস্ফীতি হ্রাস-বৃদ্ধি পেলেও ৬ শতাংশের নিচেই ছিল। ফলে গত দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি লক্ষ্য করা গেল নভেম্বর মাসে। এর আগের অক্টোবরে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ৪৭ ভাগ।
মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য গতকাল মঙ্গলবার একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের অবহিত করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এসময় বিবিএসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখীর বিষয়টি খুবই পরিষ্কার, আমরা গোপন করিনি। একনেক সভায় আমরা মন্তব্য করেছিলাম, মূল্যবৃদ্ধির প্রধান নায়ক হলো পেঁয়াজ। নতুন পেঁয়াজ বাজারে এলে মূল্য কমবে বলে আমার আশা। বাজারে মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে বিবিএসের তথ্যের মিল পাওয়া যায় না—সাংবাদিকদের এমন অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, অল্পকিছু পণ্যে মূল্যবৃদ্ধি পেলেও সার্বিক মূল্যবৃদ্ধিতে এর প্রভাব সামান্য থাকে।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, নভেম্বর মাসে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৪১ শতাংশ যা অক্টোবরে ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৪৭ ভাগ যা অক্টোবরে ছিল ৫ দশমিক ৪৫ ভাগ। শহরের তুলনায় গ্রামের খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতির হার বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
শহর ও গ্রামীণ মূল্যস্ফীতির তথ্য বিশ্লেষণ করে বিবিএস উল্লেখ করেছে, নভেম্বরে গ্রামীণ পর্যায়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার হয়েছে ৬ দশমিক শূন্য ১ ভাগ, যা অক্টোবরে ছিল ৫ দশমিক ৩৬ ভাগ। নভেম্বরে খাদ্য ও খাদ্য বহির্ভূত উপ-খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে যথাক্রমে শতকরা ৬ দশমিক ৫৪ ও ৪ দশমিক ৯৯ ভাগ, যা অক্টোবরে ছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ৫৬ ও ৪ দশমিক ৯৬ ভাগ।
শহর পর্যায়ে নভেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১২ ভাগ, যা অক্টোবরে ছিল ৫ দশমিক ৬৭ ভাগ। নভেম্বরে শহর পর্যায়ে খাদ্য ও খাদ্য বহির্ভূত উপ-খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে যথাক্রমে ৬ দশমিক ১১ ও ৬ দশমিক ১৩ ভাগ, যা অক্টোবরে ছিল ৫ দশমিক ৩১ ও ৬ দশমিক শূন্য ৯ ভাগ।
