সমস্যা সমাধানের চেষ্টায় এনবিআর
রিয়াদ হোসেন
সরকার চলতি অর্থবছরে নতুন অগ্রিম ভ্যাটের বদলে ৫ শতাংশ হারে আগাম কর বা অ্যাডভান্স ট্যাক্স (এটি) আরোপ করেছে। আমদানিকারকের পরবর্তীতে যথাযথ হিসাব ও কাগজপত্র দাখিল করে ঐ কর ফেরত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পদ্ধতিগত জটিলতায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান অগ্রিম পরিশোধ করা ঐ অর্থ ফেরত পাচ্ছে না। আমদানি পর্যায়ে এ অর্থ কাস্টম হাউজ বা শুল্ক স্টেশনে পরিশোধ করা হয়। কিন্তু ফেরতের জন্য আবেদন করতে হয় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেট অফিসে। ভ্যাট কমিশনারেট অফিসে এ অর্থ জমা না হওয়ায় আমদানিকারককে অর্থ পরিশোধ করতে পারছে না। ফলে অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে জটিলতায় পড়ছেন আমদানিকারক। এতে অনেক প্রতিষ্ঠানের চলতি মূলধন আটকে থাকছে যা ব্যবসায়ের ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইস্যুটি নিয়ে আমদানিকারকরা এনবিআরে ধরনা দিচ্ছেন। মাঠপর্যায়ের ভ্যাট অফিসের কর্মকর্তারাও জটিলতার মুখে পড়ছেন। এ অবস্থায় সম্প্রতি এনবিআর মাঠপর্যায়ের অফিসগুলোকে একটি নির্দেশনা দিয়েছে। ঐ নির্দেশনা অনুযায়ী, কাস্টম হাউজগুলো আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান যে ভ্যাট অফিসে নিবন্ধিত, আদায়কৃত আগাম করের হিসাব ঐ অফিসে পাঠাবে। আমদানিকারক সেখান থেকেই তাদের অর্থ ফেরত পাবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ইত্তেফাককে বলেন, তার পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি হয়। আমদানিকৃত পণ্যের আগাম কর চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে পরিশোধ করেন। কাস্টম হাউজ আদায়কৃত অর্থ সেখানকার স্থানীয় ভ্যাট অফিস, অর্থাত্ চট্টগ্রাম ভ্যাট অফিসে জমা দেয়। কিন্তু তিনি ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটের অধীনে নিবন্ধিত। প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটে আগাম করের অর্থ ফেরত পাওয়া সংক্রান্ত দাবি করতে গেলে উত্তর কমিশনারেটের পক্ষ থেকে বলা হলো, তারা ঐ অর্থ পায়নি। এটি চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেটে জমা হয়েছে। ফেরত পেতে হলে সেখানে আবেদন করতে হবে। কিন্তু আইন অনুযায়ী, আমদানিকারকের চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেট অফিসে আবেদন করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, এ জটিলতায় পড়ে অনেকের পক্ষেই আগাম করের অর্থ ফেরত পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে চলতি মূলধন আটকে থাকায় ব্যবসায়ের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, ইস্যুটি সমাধানের লক্ষ্যে এনবিআর সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কর্মকর্তাদের নিয়ে একাধিক বৈঠক করেছে। এরপর গত ৫ ডিসেম্বর এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করেছে। এতে বলা হয়, আদায়কৃত কর সংক্রান্ত তথ্য কাস্টম হাউজ বা শুল্ক স্টেশন পরবর্তী মাসের ৫ তারিখের মধ্যে আমদানিকারকের নিবন্ধিত ভ্যাট অফিসে পাঠাবে। সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেট ঐ অর্থ নিজস্ব রাজস্ব হিসেবে দেখাবে এবং আইনি বিধান মেনে তা করদাতাকে ফেরত দেবে।
এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, আগাম কর সংক্রান্ত এ সমস্যার কারণে ভ্যাট অফিসগুলোও জটিলতার মুখোমুখি হয়েছে। অনেক ভ্যাট অফিস এ অর্থ নিজস্ব রাজস্ব হিসেবে দেখাতে না পারায় তাদের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় কম দেখা গেছে। অন্যদিকে যারা প্রকৃত অর্থে ফেরত পাওয়ার যোগ্য, তাদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করা যাচ্ছিল না। এ নির্দেশনার ফলে জটিলতা কমে আসবে বলে জানান তিনি।
