পাঙ্গাসিনান—মস্ত নদী ঘেরা ছবির মতো সুন্দর ফিলিপাইনের এক শহর। এই নদীতে বেশ আনন্দে ছিল এক জোড়া কুমির—বুয়াগ আর বুওয়ে।
কুমির জুটির একমাত্র সাথি এক চালাক বানর—মালাক। প্রাণীকুলে দুই ভিন্ন জাতের এমন বন্ধুত্ব ছিল ভীষণ ঝুঁকির।
একদিন মেয়ে-কুমির বুওয়ের কঠিন অসুখ হয়। কুমির-রাজ্যে বুওয়ের সব চিকিত্সাই ব্যর্থ। শেষমেষ বুয়াগ বউয়ের রোগ সারাতে প্রধান পশুডাক্তারের বাড়ি যায়। ডাক্তার নানা পরীক্ষার পর বুয়াগকে জানায়, বুওয়ের বুকে বানরের কলিজা লাগালেই কেবল কুমিরানি জীবন ফিরে পাবে।
বুয়াগ অনেক খোঁজাখুঁজির পর মালাকের দেখা পায়। বানর-বন্ধু আমগাছের মগডালে মজার আম খাওয়ায় ভীষণ ব্যস্ত।
বুয়াগ নরম গলায় বন্ধুকে প্রশ্ন করে, ‘আমগাছের অত উঁচুতে তোমার কী এমন রাজকাজ?’
মালাক জানায়, ‘রসালো আমে সকালের নাস্তা সারছি। তারপর নদী পেরিয়ে বন্ধুর বাড়ি যাবার ইচ্ছে। ওদিকে সাঁতারটাও ঠিকভাবে পারি না। কিভাবে যে বন্ধুর সঙ্গে দেখা হবে!’
‘মিছামিছি দুশ্চিন্তা করছ?’ বুয়াগের উত্তর, ‘আমার চওড়া পিঠে চুপটি করে বসো তো। দেখবে কেমন নিরাপদে তোমায় নদীর ওপারে পৌঁঁছে দিই।’ আর ভাবে সে, মাঝ-নদীতে হাবুডুবু অবস্থায় মালাকের কলিজা নেয়া ভারি সহজ হবে।
এমন প্রস্তাবে মালাক তো মহা খুশি। তখনই গাছের ডাল থেকে নিশ্চিন্তে বুয়াগের পিঠে সওয়ার হয়।
দুই বন্ধুর নদী পারাপার শুরু হয়। বিশাল নদীর ফুরফুরে বাতাসে মালাক একেবারে আহ্লাদে আটখানা। চালাক বানর কুমিরকে বোকা বানিয়ে বন্ধুর বাড়ি যাওয়ার মজা একটু পরেই টের পাবে।
নদীর ঠিক মাঝখানে বুয়াগ মালাককে বলে, ‘বুওয়ের ভীষণ অসুস্থ। ডাক্তারের কথামতো তোমার কলিজাই বুওয়ের বাঁচার শেষ উপায়। প্রিয় বন্ধু, তুমি নিশ্চয়ই দয়া করবে?’
রূপান্তর: কুতুব আজাদ
