রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ২ হাজার মসজিদে মোনাজাত

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:১৭

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে বার বার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও মিয়ানমারের নানা টালবাহানা তাদেরকে সন্দিহান করে তোলে। তাই রোহিঙ্গাদের আশা এবার আন্তর্জাতিক আদালত থেকে ‘রোহিঙ্গা সংকট’ সমাধানে একটি যৌক্তিক দিকনির্দেশনা আসতে পারে।

আর সুসংবাদই যেন আসে সেই প্রত্যাশায় ধর্মভীরু রোহিঙ্গারা তাদের পক্ষে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করা গাম্বিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং মঙ্গলকামনা করে মোনাজাত করেছে। মোনাজাতে মানবিক আশ্রয় এবং জীবনধারণের উপকরণ সরবরাহ করা বাংলাদেশ সরকারের প্রতিও কৃতজ্ঞতার পাশাপাশি দেশ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়েছে।

সোমবার দিনগত রাতের এশার নামাজের পর হতে প্রতি ওয়াক্তের নামাজ শেষে সমবেতভাবে রোহিঙ্গারা ৩৪ ক্যাম্পের প্রায় ২ হাজার মসজিদে এ মোনাজাত করেন বলে জানিয়েছেন কুতুপালং ৪ নম্বর ক্যাম্পের ‘ডাবল-ও’ জোনের মাঝি মৌলভী ছাবের আহমদ ও সালামত খান।

তারা জানান, আমরা নিপীড়িত হয়ে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করি। সে সময় বাংলাদেশ সরকার মানবিক আশ্রয় না দিলে অগণিত আবাল-বৃদ্ধ-বণিতাকে অসময়ে লাশ হতে হতো। বাংলাদেশ আমাদের আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি নিজ দেশে সম্মানজনকভাবে ফেরাতে চেষ্টা চালাচ্ছেন আশ্রিত দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে এসব তথ্য পাই। তারা আরো জানান, মামলায় মঙ্গলবার শুনানি হবে জেনেই আমাদের শিক্ষিত মুরব্বিদের পরামর্শে সকল মসজিদে মোনাজাত করা হয়েছে।

সাইফুর রহমান নামে এক ব্যক্তির টুইটে দেওয়া শেয়ারে দেখা যায় কক্সবাজারের ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা ‘গাম্বিয়া, গাম্বিয়া’ বলে স্লোগান দেন। মঙ্গলবার সকালে ১৫ নম্বর জামতলী ক্যাম্পের মসজিদ এলাকায় কুয়াশার মাঝে এ স্লোগান দেওয়া হয় বলে স্থানীয়দের অভিমত।

উখিয়া থানার ওসি মো. আবুল মনসুর বলেন, এমন তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে গাম্বিয়ায় চলমান মামলার কারণে সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে ক্যাম্প এলাকায়। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় শৃঙ্খলা বাহিনী ক্যাম্প এলাকায় সদা তত্পর রয়েছে।

এদিকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে শুনানির বিষয়টি মাথায় রেখে সীমান্তে মিয়ানমার অংশে নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে তোড়জোড় লক্ষ্য করা গেছে বলে দাবি করেছেন সীমান্তে বসবাসকারীরা।

সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশ সবসময় সতর্কতামূলক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার (সিও) লে. কর্নেল আলি হায়দার আজাদ আহমেদ।