স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সন্তানদের সব সময় ভালো কাজে ব্যস্ত রাখতে হবে যাতে তারা উগ্রবাদসহ কোনো খারাপ কাজে জড়িয়ে না পড়ে। আমাদের সন্তানরা মেধাবী। তাদের সৃষ্টিশীল কাজে অনুপ্রাণিত করতে পারলে প্রত্যেকে দেশের জন্য অমূল্য সম্পদে পরিণত হবে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার বসুন্ধরায় দুই দিনব্যাপী উগ্রবাদ বিরোধী জাতীয় সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইসলামে জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, এদেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ কখনো জঙ্গিবাদকে পছন্দ করে না। সমাজকে বুঝতে হবে কেন তাদের সন্তান জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ছে। সেই কারণ খুঁজে বের করতে হবে। জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বেসরকারি সাহায্য সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের ধন্যবাদ জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, আধুনিক বিশ্বে প্রযুক্তির অবাধ ও সহজলভ্য ব্যবহারের ফলে পথভ্রষ্ট, নীতিভ্রষ্ট ও বিকৃতমনা আদর্শ তথা ভয়ংকর বিপজ্জনক উগ্রবাদও দ্রুত বিস্তৃতি লাভ করেছে পৃথিবীর আনাচে-কানাচে। সেজন্য আজ উগ্রবাদ পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও আঞ্চলিক গন্ডি পেরিয়ে বৈশ্বিক রূপ লাভ করেছে। অশিক্ষা, দারিদ্র্য, ধর্মের অপব্যবহার ও উগ্র সাম্প্রদায়িকতা সহিংস উগ্রবাদের দিকে নিয়ে যায়। তবে বাংলাদেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এই দেশ আজ জঙ্গি দমনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে আলোচনার বিষয় হয়েছে। বাংলাদেশ কিভাবে বলিষ্ঠভাবে জঙ্গিবাদ রুখতে সক্ষম হচ্ছে তা আজ পৃথিবী জানতে চায়। অর্থাত্ এ ব্যাপারে আমরা একটি রোল মডেল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, যারা বাংলাদেশের উন্নয়ন চান, তারা কখনোই আমাদের দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীদের হত্যা করতে পারেন না। অপরদিকে, বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডিএমপি কমিশনার জঙ্গি কার্যক্রমকে একটি বৈশ্বিক সমস্যা আখ্যায়িত করে এটি দমনে সবার অংশগ্রহণের ওপর জোর দেন। সম্মেলনের সভাপতি ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম অনুষ্ঠানে আগত অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ দেন।
