ইসলাম ও ইহুদি-বিদ্বেষ কেন নির্বাচনি প্রচারণার ইস্যু

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:০৫

নির্বাচনের প্রচারণার সময় গত শুক্রবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের মালিকানাধীন একটি বেকারিতে থেমেছিলেন। এটা পরিষ্কার, বরিস জনসন ইহুদি ভোটারদের আকর্ষণ করতে চাইছেন আর সেজন্যই ইহুদিদের সঙ্গে তার জনসংযোগ। তবে ব্রিটেনে নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে কোনো প্রধানমন্ত্রী ধর্মকে সামনে রেখে এগোবেন, এটা কয়েক বছর আগেও চিন্তার বাইরে ছিল। এবারের নির্বাচনি প্রচারণায় ব্রেক্সিট ছাড়াও যেটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তা হলো ইহুদিবিদ্বেষ।

যুক্তরাজ্যে মোট জনগোষ্ঠীর মধ্যে ইহুদির সংখ্যা মোটে ০.৫ শতাংশ। তাদের ভোটে বড়ো কোনো পরিবর্তন ঘটে যাবে তেমন নয়। তাত্পর্যপূর্ণ হলো, বিরোধী লেবার পার্টির পরিচয় সাধারণত বর্ণবাদবিরোধী হিসেবে। তারা সব সময় সংখ্যালঘু নানা গোষ্ঠীর সমর্থন পেয়েছে। ২০১৫ সালে যখন জেরেমি করবিন দলের নেতা হলেন, তাকে লেবার পার্টির মধ্যে এখনো পর্যন্ত সবচাইতে বামঘেঁষা বলে মনে করা হয়েছে। লেবার পার্টি সব সময় ফিলিস্তিনিদের আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছে। কিন্তু  করবিন নেতৃত্বে আসার পর সেটির মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে। তাকে ইহুদিবিদ্বেষী বলে সমালোচনা করেছেন অনেকেই। খবর বিবিসি বাংলার

ইসরাইলের সমালোচনা ইহুদিবিদ্বেষে রূপ নিচ্ছে কি না, সেটি প্রশ্নসাপেক্ষ। ইহুদিরা ব্যাংক ও আর্থিক লেনদেনের জন্য বিখ্যাত। এখন করপোরেট বাণিজ্যের বিরোধিতাও ইহুদিদের বিরোধিতা কি না, সেটাও বলা হচ্ছে। এসব কারণে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্যের ইহুদি জনগোষ্ঠীর সমর্থন হারিয়েছে লেবার পার্টি। জেরেমি করবিন যদিও বারবার ইহুদিবিদ্বেষকে সমালোচনা করেছেন। ইহুদিবিদ্বেষ-বিষয়ক অভিযোগ ওঠার পর তা তদন্তে তার দল ধীরগতিতে কাজ করেছে, তেমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেরেমি করবিন ক্ষমাও চেয়েছেন।

জেরেমি করবিনের বিরুদ্ধে যেমন ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ উঠেছে, তেমনি তার প্রধান প্রতিপক্ষ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের বিরুদ্ধে সমালোচনা হচ্ছে ইসলামবিদ্বেষের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার। গত মাসেই ব্রিটেনের মুসলিম কাউন্সিল বরিস জনসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, দেশটিতে যে ইসলামবিদ্বেষ রয়েছে, জনসন সেটি পুরোপুরি নাকচ করে দিচ্ছেন এবং সে ব্যাপারে শঠতার আশ্রয় নিচ্ছেন। এসব সমালোচনা জনসন নিজেও এক অর্থে উসকে দিয়েছেন তার কিছু মন্তব্যের মাধ্যমে। এক প্রবন্ধে তিনি বোরকা সম্পর্কে সমালোচনা করেছিলেন।

ইহুদি ও ইসলামবিদ্বেষের বিষয়টি কতটুকু সত্য, কতটুকু মিথ্যা, তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। কিন্তু ধর্মকে ঘিরে যুক্তরাজ্যের নির্বাচনে এবার তিক্ত প্রচারণা চলছে।