রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি আরবের সব সামরিক সদস্যের প্রায়োগিক প্রশিক্ষণ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে এক ঘোষণায় জানিয়েছে পেন্টাগন। ফ্লোরিডার নৌঘাঁটিতে সৌদি বিমানবাহিনীর একজন লেফটেন্যান্ট গুলি করে তিন মার্কিন নাবিককে হত্যার পর মঙ্গলবার এ ঘোষণা দেয় পেন্টাগন। শুক্রবারের ঐ ঘটনায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন ঐ সৌদি লেফটেন্যান্ট।
পেন্টাগনের এই ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণে থাকা সৌদি সামরিক সদস্যদের কার্যক্রমের ওপর বড়ো ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে বিভিন্ন বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সৌদি আরবের সামরিক বাহিনীর ৩০০ জনেরও বেশি প্রশিক্ষণার্থী পাইলট ‘সেইফটি স্ট্যান্ড-ডাউন’ অবস্থায় থাকবেন। এই সিদ্ধান্ত সৌদির পদাতিক বাহিনীর সদস্য ও প্রশিক্ষণে থাকা অন্যদের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। তবে পাঠ্যক্রমের মতো ক্লাশরুম প্রশিক্ষণ অব্যাহত থাকবে। এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করার সময় মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নিরাপত্তা প্রক্রিয়া বিস্তৃতভাবে পর্যালোচনা করার অভিপ্রায়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ৫ হাজারের মতো আন্তর্জাতিক সামরিক শিক্ষার্থীর সবার ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করা হবে। তবে আপাতত এটি সৌদি আরব থেকে আসা প্রায় ৮৫০ জন প্রশিক্ষণার্থীর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সৌদি আরবের প্রশিক্ষণার্থী পাইলটদের জন্য সোমবার থেকেই ‘সেইফটি স্ট্যান্ডডাউন’ ও প্রায়োগিক প্রশিক্ষণ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে মার্কিন নৌবাহিনীর মুখপাত্র আন্দিয়ানা জেনুয়ালদি জানিয়েছেন। পেন্সাকোলাসহ ফ্লোরিডার পৃথক তিনটি নৌঘাঁটি এবং বিভিন্ন স্থানে সৌদির প্রশিক্ষণার্থী সামরিক পাইলটদের জন্য ভিত্তিগত প্রশিক্ষণ বন্ধের কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য ঘাঁটিতেও সৌদিদের জন্য ভিত্তিগত প্রশিক্ষণ বন্ধ রাখার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে মার্কিন বিমানবাহিনী জানিয়েছে।
ফ্লোরিডার পেন্সালোকার নৌঘাঁটিতে গোলাগুলির ঐ ঘটনার পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এস্পার পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ঐ পর্যালোচনার আওতায়ই সৌদি সামরিক সদস্যদের প্রায়োগিক প্রশিক্ষণ বন্ধ রাখার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
