রেজাউল হক কৌশিক
বিমা খাতের প্রধান সমস্যা ইমেজের সংকট। অনেকেই এখনো এই খাতকে আস্থায় নিতে পারেননি। গ্রাহকেরা বিমা করে সময়মতো বিমার অর্থ ফেরত পান না। জীবনবিমা ও সাধারণ বিমা—উভয় ক্ষেত্রেই এমন নানা সমস্যা প্রায়ই দেখা দেয়। তাই এসব সমস্যা সমাধানের জন্য উদ্যোগ নিচ্ছে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।
জানা গেছে, সরকার তার সব দাপ্তরিক কাজ-কর্ম ও ভবিষ্যত্ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি থেকে মুক্তির জন্য নাগরিকদের মতামত গ্রহণের জন্য গণশুনানির আয়োজন করে থাকে। সরকারি সংস্থার মধ্যে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), তথ্য কমিশনসহ বেশ কয়েকটি সংস্থা এ ধরনের গণশুনানির আয়োজন করে।
এ প্রসঙ্গে আইডিআরএর সদস্য ও মুখপাত্র গকুল চাঁদ দাস ইত্তেফাককে বলেন, বিমা খাতের প্রতি মানুষের অনাস্থা আছে। এ খাতে অটোমেশন না থাকায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা কঠিন। এছাড়া আইডিআরএর জনবলের সংকট প্রচুর। এমন পরিস্থিতিতে বিমা খাতের উন্নয়নে কাজ করছে আইডিআরএ। উন্নয়নকাজের অংশ হিসেবে গ্রাহক ও কোম্পানিকে এক প্ল্যাটফরমে এনে গণশুনানির ব্যবস্থা করা হবে। খুব শিগিগরই তা শুরু হবে। এতে গ্রাহক ও কোম্পানিগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরো মজবুত হবে। বিমার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়বে, যা টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। দেশের বেশ কয়েকটি কমিশনে যে মডেলে শুনানি হয়, একইভাবে এখানেও হবে বলে জানান তিনি। আগামী বছরের প্রথম থেকেই এই শুনানি শুরু করা হবে বলে আশা করছে আইডিআরএ।
গণশুনানি একটি ভালো উদ্যোগ হলেও এর ফলাফল খুব সুখকর হয় না বলেই অনেকে জানিয়েছেন। বিষয়টি আইডিআরএর কাছে উপস্থাপন করার পর আইডিআরএ বলছে, সভার তারিখ, সময়, স্থান, দক্ষ সঞ্চালক, কতজনকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া যাবে, একজন কতক্ষণ কথা বলতে পারবেন, বিমা কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সময় নেওয়া—এসব বিষয় নিয়ে কাজ হচ্ছে। গণশুনানি যাতে ফলপ্রসূ হয়, সেভাবেই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে গণশুনানি করার আগে জাতীয় পত্রিকার মাধ্যমে বেশ কিছুদিন আগেই তা ঘোষণা দেওয়ার জন্য আইডিআএর কাছে অনুরোধ করেছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই। তারা বলছেন, এতে একটা ফরম পূরণ করে আগ্রহী ব্যক্তিরা অংশ নিতে পারবেন। আর গণশুনানির বিষয়ে অগ্রিম প্রস্তুতিও নিতে সুবিধা হবে। আর শুনানি পরিচালনা ও সমন্বয় করার জন্য সুনির্দিষ্ট জনবল রাখার জন্যও বলেছেন তারা।
প্রসঙ্গত, দেশের বিমা খাতে ভাব-মর্যাদার যেমন সংকট রয়েছে, তেমনি অভাব রয়েছে আধুনিক ও যুগোপযোগী বিমা পণ্য বা সেবার। এতে দেশের মোট দেশজ উত্পাদন বা জিডিপিতে বিমা খাতের অংশগ্রহণ মাত্র দশমিক ৫০ শংতাশ। যেখানে ভারতের জিডিপিতে বিমার অবদান ১২ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ৭ শতাংশ। দেশের অর্থনীতি এগোচ্ছে, মানুষের মাথাপিছু আয়ও বাড়ছে। ফলে জিডিপিতে এ খাতের অংশ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এজন্য সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে এই খাতকে সম্পৃক্ত করার সুযোগ আছে। তাই দেশের বিমা খাতের যে সম্ভাবনা আছে, তা কাজে লাগাতে হলে এই খাতের ইমেজ-সংকট দূর করার কথা বলছেন সংশ্লিষ্ট সবাই। আইডিআরএর নতুন উদ্যোগ গণশুনানি সেই ইমেজ-সংকট দূর করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারবে বলেও তারা মনে করছেন।
