স্পোর্টস রিপোর্টার
এসএ গেমসের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদেরা সোনার পদক গলায় ঝুলিয়েছেন। সর্বোচ্চ সোনার পদক জয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ। অথচ ফুটবলে সোনার পদক জয়ের টার্গেট নিয়ে নেপালে গিয়ে ব্রোঞ্জ গলায় গতকাল ঢাকায় ফিরেছে। হতাশ হয়েছেন দেশের ফুটবল ভক্তরা। ক্ষুব্ধ হয়েছে বাফুফে। এমন সোনার পদক না জিতলেও পারফরম্যান্স ভালো ছিল না। সন্তুষ্ট নয় বাফুফে। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগের কণ্ঠ উত্তপ্ত। কণ্ঠে ফুটল রাগ-ক্ষোভ। আবু নাঈম সোহাগ উলটো প্রশ্ন করে বললেন, ‘কোন মানুষটি ফুটবলারদের পারফরম্যান্সে খুশি হয়েছে? দেশের মানুষ অসন্তুষ্ট। পদক জয় বড়ো কথা নয়। খেলাটা আরো ভালো হওয়া উচিত ছিল। আমরা যেভাবে শ্রম দিয়েছি, তাতে এই পারফরম্যান্স আশা করি না।’
জাতীয় দলের বর্তমান খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স উন্নতি করতে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে যত রকম সুবিধা দেওয়া যায়, তার সবই দেওয়ার চেষ্টা করেছে বাফুফে। বারবার বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন বলে আসছিলেন, তিনি তো মাঠে খেলে দিতে পারবেন না। তাহলে গলদটা কোথায়? গলদটা খুঁজতে চায় বাফুফে। সাধারণ সম্পাদকের কণ্ঠে এমনই আভাস পাওয়া গেল। সোহাগ বললেন, ‘দল ফিরেছে। আমরা অবশ্যই দেখব কেন এমন হলো। এটা তদন্ত করা হবে কি না, সেটা এখনো বলতে পারছি না। কমিটি গঠন করার আলোচনাও হয়নি।’ তবে বাফুফের মাথায় আছে বিয়ষটি। ঢাকায় ফেরা একজন ফুটবলার জানান, ‘আমরা চেষ্টা করেছি এখন না পারলে কী করব। কেউ কি হারতে চায় বলেন?’
এসএ গেমস ফুটবল অভিযানে এবার বাংলাদেশের পথটা তুলনামূলক সহজ ছিল। কারণ বড়ো বাধা ভারত ছিল না। না থাকলেও ভুটান এমনভাবে জ্বলে উঠবে, সেটা বাংলাদেশের ফুটবলাররা কল্পনাও করেননি। কচ্ছপ আর খরগোশের গল্পের মতো হয়েছে ভুটানের পারফরম্যান্স। ভুটান পারবে না সবাই জানে। সেই ভুটান এবার এসএ গেমস ফুটবলের ফাইনাল খেলেছে। আর এই ভুটানের কাছে হার দিয়ে বাংলাদেশ অভিযান শুরু করেছিল। গোলের পর গোল মিস করে দেশকে বঞ্চিত করেছেন স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজ জীবন। হারতে হয়েছিল ভুটানের বিপক্ষে। মালদ্বীপের বিপক্ষে আত্মঘাতী গোল পেয়ে এগিয়ে থেকেও সেই ম্যাচ ড্র হয়েছে। রেফারি ন্যায্য গোল দেননি বলে অভিযোগ কোচ জেমি ডের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কোনো রকমে ১-০ গোলে জিতে ফাইনালের সম্ভাবনা টিকিয়ে রেখেছিল। সুফিলের গোল লঙ্কানদের বিপক্ষে ম্যাচ জিতিয়েছিল। স্ট্রাইকার জীবনকে একাদশের বাইরে রেখে সুফল পেয়েছিলেন জেমি ডে। সাইড বেঞ্চ থেকে পরে জীবনকে নামালেও লঙ্কানদের গোলকিপারকে একা পেয়েও ব্যর্থ হয়েছিলেন জীবন। নেপালের বিপক্ষে ডু অর ডাই ম্যাচে ১-০ গোলে হেরে ফাইনালে ওঠার পথ বন্ধ হয়ে যায়। ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে মাথা নিচু করে ফিরতে হয়েছে ফুটবলারদের। দেশের ঘরোয়া ফুটবলে ৪০, ৫০, ৬০ লাখ টাকা পারিশ্রমিক নিয়েও যারা দেশের জন্য কিছু আনতে পারছেন না, তাদেরই উলটো পিঠে থাকা ক্রীড়াবিদেরা দেশের মুখ উজ্জ্বল করছেন। সংসারে অভাব-অনটন। অনুশীলনের পর ঠিকমতো খাওয়াও পান না এমন ক্রীড়াবিদেরাও দেশের জন্য লড়াই করে পদক এনে দিয়েছেন। আর শহরের আধুনিক ফ্ল্যাটে জীবনযাপন করেও ফুটবলাররা বাংলাদেশকে সোনার লড়াইয়ের মঞ্চেই তুলতে পারলেন না।
