কেরানীগঞ্জে প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক কারখানায় বিস্ফোরণে ভয়বাহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে আগুনে পুড়ে একজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ৩৫ জন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। গতকাল বুধবার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট দেড় ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। মৃত ব্যক্তির শরীর সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ায় তার নাম-পরিচয় গতকাল রাত পর্যন্ত শনাক্ত হয়নি। দগ্ধদের মধ্যে ২০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের শরীরের ৪০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেছে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা দগ্ধরা হলেন—লাল মিয়া, মেহেদী, দুর্জয়, সুজন, ওমর ফারুক, এহসান, রিয়াজ, জাকির, সোহাগ, মফিজুল, মোস্তাকিম, সালাউদ্দিন, আলম, সজল, ফিরোজ, আসলাম, ইমরান, দিদারুল, জিসান, রাজ্জাক, সোহান, ফয়সাল, বাবুল, জাহাঙ্গীর, বশির, খালেদ, শাখাওয়াত ও আবু সাইদ। তাদের বয়স ২০ থেকে ৩৮ বছরের মধ্যে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে দগ্ধদের চিকিত্সার ব্যাপারে খোঁজখবর নেন।
প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক কারখানায় নিরাপত্তা কর্মকর্তা বাহার আলী বলেন, কারখানার ভেতর প্রায় দুই শতাধিক লোক কাজ করে। যে ইউনিটে আগুন লাগে সে ইউনিটে ৫০/৬০ জন শ্রমিক কাজ করতেন। আগুনের শুরুতেই কারখানার ম্যানেজার নজরুল ইসলাম দগ্ধ অবস্থায় বেরিয়ে আসেন। তারপর শ্রমিক আলমগীর, রাজ্জাক, সাজিতসহ বেশ কয়েক জন অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় বেরিয়ে আসেন। প্রায় আধাঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন বলেন, কী কারণে আগুন লেগেছে এখনো জানা যায়নি।
বিদ্যুত্ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, সেখানে ৭০-৮০ জন শ্রমিক কাজ করতেন। এরকম একটি মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। যারা স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা, তাদের উচিত ছিল ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে এক হয়ে আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা চিহ্নিত করা। সামনে অবশ্যই তারা এ কাজ করবে।
