সেন্টমার্টিনের রেস্টুরেন্টে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার বিক্রির অভিযোগ

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৪১

প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের রেস্টুরেন্টগুলোতে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। দ্বীপে বেড়াতে আসা পর্যটকদের মাঝে এ নিয়ে অসন্তোষ দেখা গেছে। নিরুপায় হয়ে পর্যটকরা এসব অস্বাস্থ্যকর খাবার খাচ্ছেন। এদিকে, পর্যটকরা সেন্টমার্টিনের যত্রতত্র গড়ে ওঠা খাবার হোটেলের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। দামের ক্ষেত্রেও পর্যটকরা ঠকছেন বলে জানান। সরেজমিনে দেখা গেছে, দ্বীপে সব মিলিয়ে শতাধিক রেস্টুরেন্ট বা খাবার হোটেল রয়েছে। প্রতিটি হোটেলের সামনে রাস্তার ধারেই এসব রেস্টুরেন্টে মশলা, মরিচসহ প্রয়োজনীয় উপাদান মিশ্রিত মাছ বড়ো থালা/টেবিলে সাজিয়ে রাখেন। সড়কের ওপর সাজিয়ে রাখা এসব থালায় কোনো ধরনের ঢাকনা নেই। পর্যটক আসামাত্র ঐসব ঢাকনাবিহীন থালা থেকে মাছ ভেজে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন সময় এসব খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

ঢাকা মিরপুর আগারগাঁও তালতলা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক অস্ট্রেলিয়ায় অধ্যয়নরত ছাত্র তাবিব জানান, দ্বীপের খাবারের হোটেলগুলোর অবস্থা খুবই বাজে। তিনি জানান, রেস্টুরেন্টে কর্মরতদের এক ধরনের খাবার অর্ডার করলে সরবরাহ করেন আরেক ধরনের। খাবারের মূল্যটাও খুব বেশি বলে জানান এই পর্যটক। চট্টগ্রাম থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক আবু বক্কর ছিদ্দিক টিপু জানান, খাবার প্রায় খোলা অবস্থায় থাকে। অপরিচ্ছন্ন খাবার ছাড়া এখানে মানসম্মত খাবার পাওয়াই দুষ্কর। ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা আরেক পর্যটক ডাক্তার মাছুম বিল্লাহ জানান, সেন্টমার্টিনের খাবার হোটেল বোধহয় একেবারেই অনিয়ন্ত্রিত। তারা যাকে যেভাবে পাচ্ছে সেভাবেই টাকা নিয়ে নিচ্ছেন। খাবারের মান নিয়ে তিনি চরম অসন্তুষ্টির কথা জানান।

টেকনাফের হোয়াইক্যং নয়াবাজার এলাকার বাসিন্দা ও উন্নয়নকর্মী এইচ এন আমান জানান, দূরবর্তী অঞ্চল থেকে আগত পর্যটকদের কথা বলার সময় উচ্চারণের তারতম্যের সুযোগ নিয়ে দ্বীপের রেস্টুরেন্ট সংশ্লিষ্টরা খাবারের মূল্য বাড়িয়ে নেয়। তিনি খাবার হোটেলের গলাকাটা বাণিজ্য এবং অপরিচ্ছন্ন খাবার পরিবেশনের কথা জানান।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান খাঁন জানান, ট্যুরিজম ব্যবসায়ীরা মূলত খাবারের মূল্য বেশি নিয়ে নিচ্ছেন। তিনি দ্বীপে অপরিচ্ছন্ন খাবার পরিবেশনের কথা স্বীকার করে বলেন, অপরিচ্ছন্ন খাবার পরিবেশন না করতে ইতিমধ্যে মাইকিং করা হয়েছে। যদি কেউ অপরিচ্ছন্ন খাবার বিক্রি করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুমন বড়ুয়া জানান, খোলা খাবার খেলে ডায়রিয়া, জন্ডিস, টাইফয়েডের মতো মারাত্মক রোগ হতে পারে। তিনি প্রবালদ্বীপে পর্যটকদের সুবিধার্থে স্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, পর্যটক হোক, স্থানীয় হোক— কারো কাছেই অপরিচ্ছন্ন খাবার পরিবেশনের সুযোগ নেই। তিনি এই বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।