‘হাই ভোল্টেজ’ ম্যাচ বলে অনুমান করা হচ্ছিল। কাগজে কলমে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা ঢাকা প্লাটুনের মুখোমুখি হয়েছিল রাজশাহী রয়্যালস। কিন্তু কাগজের হিসাব কাগজেই থেকে গেলো। ঢাকাকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়ে এবারের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) শুরু করল রাজশাহী।
গতকাল দিনের প্রথম ম্যাচে ঢাকাকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে রাজশাহী। আগে ব্যাট করা ঢাকা ৯ উইকেটে করতে পেরেছিল ১৩৪ রান। ১৮.২ ওভারে মাত্র এক উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় রাজশাহী।
প্রথম ম্যাচেই ঢাকার এই পরাজয়টা খুব সহজভাবে নেওয়ার কথা নয় দলটার। তবে দলটির অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বলছেন, এই পরাজয়ে তারা ভেঙে পড়ছেন, তা নয়। বরং অনেক সময় আছে, এই ভুলগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে চান তারা, ‘টুর্নামেন্টটা অনেক বড়ো। সময় আছে। আজকে কিছু ভুল হয়েছে। রান হয়েছে। সেগুলো ঠিক করতে হবে। কালই আবার খেলা। সময়ও নেই হাতে। যে ভুলগুলো হয়েছে। যেখানে ভালো করা উচিত ছিল সেগুলো ঠিক করতে হবে।’
মাশরাফি মনে করেন, তাদের দলের ভারসাম্য ঠিক আছে। তাদের দল সেমিফাইনাল খেলবে, এটা তাদের প্রত্যাশা। আর এই প্রত্যাশা মেটানোর মতো দল তাদের আছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন, ‘ব্যালেন্স ঠিক আছে। আমাদের দলে যারা তরুণ আছে তাদের জন্য এটা অনেক বড়ো একটা সুযোগ। চাপ থাকবে। ঢাকা প্লাটুন্স প্রত্যাশা করে সেমিফাইনাল খেলবে অ্যাটলিস্ট। এই পরিস্থিতিতে ব্যাটিং করা ওদের জন্য বড়ো সুযোগ। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের বোলারদের ওরা হ্যান্ডেল করবে। আমি মনে করি অধিনায়ক হিসেবে আমি ভাবছি যে ওরা কতোটা সুন্দরভাবে চাপ নিয়ে খেলতে পারে। তারা নিজেরা নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।’
টসে জিতে আগে ঢাকাকে ব্যাট করতে পাঠায় রাজশাহী। দলীয় মাত্র ১৫ রানেই ব্যক্তিগত ৫ রান করে ফিরে আসেন ওপেনার তামিম ইকবাল। এরপর এনামুল হক বিজয় দুটো ছোটো ছোটো জুটি করেছেন। প্রথমে লনি ইভান্স এসে ১৩ রান করে ফেরেন। এরপর জাকের আলী ১৯ বলে ২১ রান করে ফেরেন। বিজয় শেষ পর্যন্ত ৩৩ বলে ৩৮ রান করে ফিরে আসেন।
এখান থেকে মিডল ও লেট মিডল অর্ডারে আর রান পায়নি ঢাকা। শহীদ আফ্রিদি কোনো রান না করেই ফিরে আসেন। তার আগে দ্রুত ফেরেন পেরেরা ও আরিফুলও। শেষ দিকে ওয়াহাব রিয়াদ ও মাশরাফি ব্যাট হাতে দলকে একটু লড়াইয়ের স্কোর এনে দেন। ওয়াহাব ১২ বলে ১৯ ও মাশরাফি ১০ বলে অপরাজিত ১৮ রান করেন।
জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই স্বচ্ছন্দ ছিল রাজশাহী। তাদের ভালো একটা সূচনা এনে দেন হজরতউল্লাহ জাজাই ও লিটন দাস। লিটন ২৭ বলে ৩৯ রান করে আউট জন। এরপর শোয়েব মালিককে নিয়ে খেলা শেষ করে আসেন জাজাই। অভিজ্ঞ মালিক ৩৬ বলে ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন। আর জাজাই ৪৭ বলে ৫৬ রান করে অপরাজিত ছিলেন।
