উয়েফা চ্যাম্পিয়নন্স লিগের গ্রুপ পর্বের শেষ দিনে নিজেদের শেষ ম্যাচটা গোল করেই রাঙিয়ে রাখলেন ইউরোপীয় তারকারা। নেইমার, এমবাপে, রোনালদো, জেসাসদের গোলে জয় পেয়েছে তাদের দল।
ইউরোপসেরার মঞ্চে অভিষেক আসরে আটলান্টার মধুচন্দ্রিমা চলছেই। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে শাখতারকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছে ইতালীয় দলটি। শেষ দিনে লোকোমোটিভ মস্কোকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদও উঠে গেছে শেষ ষোলোয়। দিনের অন্য ম্যাচে দ্বিতীয় রাউন্ড আগেই নিশ্চিত করে ফেলা পিএসজি, রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার সিটি, বায়ার্ন মিউনিখ আর জুভেন্তাসও জয় তুলে নিয়েছে।
‘সি’ গ্রুপে আটলান্টার শুরুটা অবশ্য মোটেও ‘মধুচন্দ্রিমা-সুলভ’ ছিল না। প্রথম তিন ম্যাচেই হার আর চতুর্থ ম্যাচে ড্রয়ের ফলে খাদের কিনারায়ই চলে গিয়েছিল দলটি। শেষ দুই ম্যাচে জয় প্রথমবারের মতো খেলতে আসা ইতালীয় দলটিকে তুলে দিল শেষ ষোলোয়। গত বুধবার রাতে প্রতিপক্ষের মাঠে ৩-০ ব্যবধানে জিতলেও অবশ্য দলটিকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল ৬৬ মিনিট পর্যন্ত। টিমোথি ক্যাস্তানিয়ের গোলটির পর ৮০ আর ৯০ মিনিটে মারিও প্যাসালিচ আর রবিন গোসেন্সের লক্ষ্যভেদ দলটির শেষ ষোলো নিশ্চিত করে। গ্রুপের অন্য ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও ম্যানচেস্টার সিটি গ্যাব্রিয়েল জেসাসের হ্যাটট্রিক আর ফিল ফোডেনের গোলে জয় পায়।
পরের রাউন্ডে যেতে হলে জয় পেতেই হবে, এমন সমীকরণ ‘ডি’ গ্রুপে অ্যাটলেটিকোর সামনেও ছিল। নিজেদের মাঠ ওয়ান্দা মেত্রোপলিতানোয় শুরুটা তেমন মরিয়াই হয়েছিল দলটির। ১৬ মিনিটেই পেনাল্টি থেকে হোয়াও ফেলিক্স এগিয়ে দেন দলকে। এরপর ৫৪ মিনিটে ফেলিপে মন্তেইরোর লক্ষ্যভেদ সহজেই পরের রাউন্ডে তুলে দেয় দিয়েগো সিমিওনের দলকে।
গ্রুপের অন্য ম্যাচে জুভেন্তাসও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও গঞ্জালো হিগুয়েইনের গোলে সহজ জয়ই পেয়েছে। শেষ ম্যাচে বেয়ার লেভারকুসেনের বিপক্ষে এই জয়ের ফলে অবশ্য তাদের ভাগ্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ম্যাচের আগেই নিশ্চিত ছিল তাদের গ্রুপ শ্রেষ্ঠত্ব।
‘এ’ গ্রুপের নিষ্পত্তিও হয়ে গিয়েছিল দলগুলোর পঞ্চম ম্যাচ শেষেই। শেষ দিনের নিয়ম রক্ষার ম্যাচেও অবশ্য জয় তুলে নিয়েছে পিএসজি ও রিয়াল মাদ্রিদ। নিজেদের মাঠে গ্যালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে পাবলো সারাবিয়া, মাউরো ইকার্দি, নেইমার, কিলিয়ান এমবাপে ও এডিসন কাভানির লক্ষ্যভেদে ৫-০ ব্যবধানের বড়ো জয়ই পেয়েছে ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা।
রিয়াল মাদ্রিদ গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর ম্যাচের ৫৩ মিনিটে রদ্রিগোর গোলে এগিয়ে যায়। এর মিনিট দুয়েক পর স্বাগতিক ক্লাব ব্রুজ সমতা ফেরালেও ভিনিসিয়াস জুনিয়র আর লুকা মদ্রিচের গোলে ৩-১ ব্যবধানের জয়ই পায় রিয়াল।
‘বি’ গ্রুপের নিয়ম রক্ষার ম্যাচেও টটেনহ্যামের বিপক্ষে বায়ার্ন মিউনিখ নেমেছিল পূর্ণশক্তির দল নিয়েই। কিংসলে কোমান, থমাস মুলার আর ফেলিপে কোটিনহোর গোলে ৩-১ ব্যবধানের জয়ও পেয়েছে তারা। গ্রুপটির অন্য ম্যাচে অলিম্পিয়াকোস ১-০ গোলে হারিয়েছে রেড স্টারকে।
