জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে গবাদি পশুর ভাইরাসজনিত ‘ল্যাম্পি স্কিন’ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এতে আতঙ্কিত খামারিরা।
রোগের লক্ষণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, গরুর প্রথমে জ্বর, ব্যথা, খাবার গ্রহণে অরুচি দেখা দিচ্ছে। আক্রান্ত পশুর শরীরের বিভিন্ন অংশে গোলাকার গুটি বা ফোস্কা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি পায়ে এবং শরীরের নিচের অংশ ফুলে পানি জমা হচ্ছে। শেষ পর্যায়ে কয়েকটি গুটি বা ফোস্কা ফেটে যাচ্ছে ও ক্ষত সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিরল রোগ সম্পর্কে ধারণা নেই খামারিদের। একই সঙ্গে এ রোগের কোনো প্রতিষেধক না থাকলেও ছাগলের ভ্যাকসিন হিসেবে পরিচিত ‘গোট পক্স ভ্যাকসিন’ এসব আক্রান্ত গরুকে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
উপজেলার ধরঞ্জী গ্রামের আসলাম হোসেন, নুরুল ইসলাম, কাঁচনার ওয়াজেদ আলী বলেন, হঠাত্ করেই এ রোগে আক্রান্ত হয়ে গরুগুলো খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। পুরো শরীরে চাকা চাকা দাগ দেখা দিয়েছে। এছাড়াও নতুন এ রোগে বেশকটি গরু মারাও গেছে। গোবিন্দপুর গ্রামের মমিনুর রহমান বলেন, গুটি বসন্তের ন্যায় তার বাড়ির ২টা গাভি ও ২টি বাছুর এ রোগে আক্রান্ত। ভুক্তভোগী বরণ গ্রামের একরামুল ৭ মাস বয়সের বাছুর ও সিথা মাথখুর গ্রামের দুলাল হোসেন তার হালের ২টি আক্রান্ত হওয়া গরু নিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে আসলে তাদের প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল হাকিম বলেন, কুষ্টিয়া জেলায় প্রথম গরুর ল্যাম্পি স্কিন রোগ দেখা দেয়, বেশ কিছুদিন আগে থেকেই এ উপজেলার কৃষকের গরুতে কমবেশি এ রোগ দেখা যাচ্ছে।
পাঁচবিবি উপজেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. হাসান আলী বলেন, রক্ত চোষা আটাঁলি, মাইট, মশা ও মাছির মাধ্যমে রোগটি দ্রুত এক পশু থেকে অন্য পশুতে ছড়ায়। আক্রান্ত পশু একস্থান থেকে অন্যস্থানে পরিবহনের মাধ্যমে রোগটি ছড়াতে পারে। এছাড়াও আক্রান্ত পশুর লালা, দুধ এবং আক্রান্ত ষাঁড়ের সিমেনের মাধ্যমেও রোগটি ছড়াতে পারে বলে তিনি জানান।
