ব্রিটেনে ‘ব্রেক্সিট’ নির্বাচন অনুষ্ঠিত

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:৫৬

যুক্তরাজ্যে পাঁচ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তৃতীয় দফা সাধারণ নির্বাচনে গতকাল ভোট দিলেন ভোটাররা। দেশটিতে প্রায় ১০০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ডিসেম্বর মাসে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলো। মূলত ব্রেক্সিট ইস্যুতে ভোট হওয়ায় এটাকে ‘ব্রেক্সিট’ নির্বাচন বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে ভোটের হার আগের চেয়ে বাড়তে পারে বলে জানা গেছে। এর আগে ২০১৭ সালের ৮ জুন এবং ২০১৫ সালে ৭ মে ভোটগ্রহণ হয়েছিল।

ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড জুড়ে      থাকা ৬৫০টি নির্বাচনী কেন্দ্রে স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গণনা শুরু হওয়ার কথা। স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার ভোরের দিকে বেশির ভাগ ফলাফল ঘোষণার কথা রয়েছে। সাধারণ নির্বাচনের মতো এবারও ফার্স্ট পাস্ট পোস্ট সিস্টেমের অধীনে মোট ৬৫০ জন এমপি নির্বাচন করা হবে। এই পদ্ধতির আওতায় একটি আসনে যে প্রার্থী সর্বাধিক ভোট অর্জন করেন, তিনিই এমপি নির্বাচিত হন।

২০১৭ সালে নিউক্যাসল সেন্ট্রাল প্রথম কোনো নির্বাচনী এলাকা যেখানে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার এক ঘণ্টার মাথায় ফলাফল ঘোষণা করে। যুক্তরাজ্যে ঐতিহ্যগতভাবে প্রতি চার বা পাঁচ বছরে একবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে অক্টোবরে এমপিরা দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের পক্ষে ভোট দেন। ১৯৭৪ সালের পর এই প্রথম ব্রিটেনে শীতকালে নির্বাচন হলো। সবশেষ ডিসেম্বরে নির্বাচন হয়েছিল ১৯২৩ সালে।

প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন তার ভোট দিয়েছেন। তিনি কুকুর ডিলিনকে সঙ্গে নিয়ে ওয়েস্টমিনস্টারের একটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন, লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা জো সুইনসন, এসএনপি নেতা নিকোলা স্টারজন, গ্রিন পার্টির সহ-নেতা জোনাথন বার্টলে এবং প্লেইড সিমরুর নেতা অ্যাডাম প্রাইস সবাই ভোটকেন্দ্রে যান। ব্রেক্সিট পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজ ডাক ভোটের মাধ্যমে তার ভোট দিয়েছেন। ইতোমধ্যে অনেকে তাদের পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে ক্রস চিহ্ন দিয়ে ডাকের মাধ্যমে ভোট দিয়েছে। দুই বছর আগে ৭০ লাখেরও বেশি মানুষ ডাকের মাধ্যমে ভোট দিয়েছিল।

ভবিষ্যতে শঙ্কায় ব্রিটিশরা

আগের নির্বাচনের চেয়ে কেন্দ্রে ভোটারদের বড়ো লাইন লক্ষ্য করা গেছে। জুলেইস বেইলি নামের এক ভোটার টুইটে জানিয়েছেন, তিনি তার জীবনে এত বড়ো লম্বা লাইন দেখেননি। এজন্য তার খুব ভালো লেগেছে। ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হবে কি না সেই বিষয়টি নির্ধারিত হবে গতকালের ভোটে। তবে জয়-পরাজয় দুটোই ব্রিটিশদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে। কারণ, ব্রিটেন ইইউ ছেড়ে দিলে ব্রিটিশদের ইইউভুক্ত দেশে চলাফেরার স্বাধীনতা, ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাধীনতা কতটা থাকবে তা নিয়ে শঙ্কা আছে সবার মধ্যে। শঙ্কা আছে অর্থনীতিবিদদের মধ্যেও। অনেকে আশঙ্কা করছেন, ইইউ ছাড়লে ব্রিটিশ অর্থনীতিতে ধস নামতে পারে। আবার ধনীদের একাংশ মনে করছেন, ইইউ ছাড়লেই বরং ভালো হবে। তারা ইইউপন্থি লেবার পার্টির বিরোধিতা করছেন।