অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিল

আসামে কারফিউ ভেঙে বিক্ষোভ, গুলি, নিহত ৪

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩:০০

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আসামে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে রাতভর বিক্ষোভের পর ঐ রাজ্যে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। বিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা রাজধানী গুয়াহাটিতে কারফিউ ভেঙে রেল স্টেশন, দোকানপাট, যানবাহন ও বিজেপি বিধায়কের বাড়িতে আগুন দিয়েছে। বেশ কয়েকটি রেল স্টেশনে ভাঙচুরও হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে। গুয়াহাটিতে পুলিশের গুলিতে তিন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এর আগে আহত অবস্থায় একজন হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান। বিক্ষোভ চলছে ত্রিপুরায়ও। খবর বিবিসি ও এনডিটিভির

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি বলছে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা অমুসলিম সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে এই বিল তৈরি করা হয়েছে। ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বৃহস্পতিবার এই বিলটি পাশ হওয়ার পর থেকেই আসামের বিভিন্ন স্থানে সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষর করলেই বিলটি আইনে পরিণত হবে।

রাজ্যের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলার লক্ষ্যে কাশ্মীরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সেনাবাহিনীর কিছু ইউনিটকে আসামে সরিয়ে আনা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সানোয়ালসহ বেশ কজন বিজেপি নেতার বাড়িঘরে হামলা করেছে বলে রয়টার্স জানায়। উত্তেজনা প্রশমনের জন্য রাজ্যের ১০টি জেলায় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে।

কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসসহ ভারতের বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল পার্লামেন্টে সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল বা সিএবি নামে পরিচিত এই বিতর্কিত বিলটির বিরোধিতা করেছে। ভারতের বিভিন্ন মুসলিম দলের নেতারাও বিলটিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। আসামে যারা এই বিলের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তাদের বক্তব্য, এই বিলের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ থেকে আসামে আরো বেশিসংখ্যক বাঙালি হিন্দুর আসার পথ খুলে দেওয়া হয়েছে। আসামে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়     অহমিয়া জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বাংলাভাষী জনগণের বিরোধ চলছে।

অহমিয়াদের প্রতি মোদির আশ্বাস

আসাম অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠার পর প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছেন, এই আইনটি নিয়ে আসামের বাসিন্দাদের উদ্বেগের কারণ নেই। ইংরেজি এবং অহমিয়া ভাষায় পাঠানো একের পর এক টুইটার বার্তায় মোদি বলেছেন, আসাম চুক্তির অনুচ্ছেদ-৬ কে রক্ষায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে এবং কেন্দ্রীয় সরকার সম্ভাব্য সবকিছুই করবে। এই চুক্তিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের রাজনৈতিক, ভাষাগত, সাংস্কৃতিক এবং ভূমির অধিকারকে হেফাজত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেস পালটা খোঁচা দিয়ে বলেছে, ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে মানুষ প্রধানমন্ত্রীর টুইট দেখবেন কীভাবে।