সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদন দাখিল করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ (বিএসএমএমইউ)। আপিল বিভাগে দাখিল করা ঐ প্রতিবেদনে খালেদা জিয়ার চারটি রোগের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, উনি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অ্যাজমা বা কাশিসহ শ্বাসকষ্ট এবং রিউমেটায়েড আরথ্রাইটাইসিসে ভুগছেন। তবে তার উচ্চ রক্তচাপ এবং অ্যাজমা মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, কেবল ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য তার নতুন করে কিছু পরীক্ষা প্রয়োজন। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. ঝিলন মিঞা সরকারের নেতৃত্বে সাত সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড তাদের প্রতিবেদনে এসব কথা বলেছে।
বোর্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, খালেদা জিয়া আগে থেকেই রিউমেটায়েড আরথ্রাইটিসে ভুগছেন, সেজন্য আগে থেকেই তার হাঁটুর জয়েন্ট রিপ্লেস করা আছে। তার সবকিছু ঠিক থাকলেও রিউমেটায়েড আরথ্রাইটিস নিয়ন্ত্রণে আসছে না। যে চিকিত্সা তাকে দেওয়া হচ্ছে, সেটা পরিপূর্ণ নয়। আধুনিক সময়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি বায়োলজিক্যাল থেরাপি রয়েছে। কিন্তু এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে, আবার এতে করেই তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাবেন অথবা যাবেন না—এ বিষয়গুলোও সম্পর্কিত। এ বিষয়গুলোতে বেগম খালেদা জিয়ার সম্মতি চাওয়া হয়েছিল কিন্তু চিকিত্সকরা সে চিকিত্সা শুরু করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত দেননি বিএনপি চেয়ারপারসন।
মেডিক্যাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার যে রিউমেটিক আরথ্রাইটিস রয়েছে সেটা এতদিন পায়ে থাকলেও এখন সেটা শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টকে আক্রমণ করছে, অ্যাক্টিভ স্টেজে রয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে, এখন সেটা শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টকে ধরে ফেলেছে। চিকিত্সকদের ভাষায়, বিভিন্ন জয়েন্টকে ইনভল্ব করছে। সে কারণে তিনি অন্যের সাহায্য ছাড়া মুভমেন্ট করতে পারছেন না। আর এই অসুখে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আক্রান্ত এবং এর কোনো ‘কিউরেটিভ ট্রিটমেন্ট’ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। একইসঙ্গে যেহেতু তার ‘রিউমেটিক আরথ্রাইটিস’ ‘অ্যাক্টিভ স্টেজে’ রয়েছে তাই এ বিষয়ে ‘আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যে বায়োলজিক্যাল থেরাপি’ বা এ বিষয়ে যে অ্যাডভান্স চিকিত্সা সেটা তিনি এতদিন পাননি। তারা এখন সেটা শুরু করতে চান এবং বর্তমানে এটাই আন্তর্জাতিকভাবেও সুপারিশ করা হয়।
