বাংলাদেশ ডিজিটাল দিবস পালন

‘সত্য-মিথ্যা যাচাই আগে, ইন্টারনেটে শেয়ার পরে’

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:২৯

 ‘সত্য-মিথ্যা যাচাই আগে, ইন্টারনেটে শেয়ার পরে’—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে তৃতীয়বারের মতো গতকাল সারাদেশে উদ্যাপিত হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস-২০১৯।

সোশ্যাল মিডিয়া বর্তমানে দেশের অন্যতম যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমই ফেক নিউজ ও প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এ অবস্থায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু শেয়ার করার আগে সত্য-মিথ্যা যাচাই করা জরুরি। জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বেলুন উড়িয়ে র?্যালির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে এ সব কথা বলেন।

গতকাল সারাদেশে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ দিবস উদ্যাপিত হয়েছে। সারাদেশের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বর্ণাঢ্য র?্যালি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, বিজয়ের মাসে আর একটি সাফল্য হচ্ছে ১২ ডিসেম্বর। এই দিনটিতে আমরা পালন করছি ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস হিসেবে। এবার তৃতীয়বারের মতো পালিত হচ্ছে দিবসটি। তিনি আরো বলেন, ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা দিয়েছিলেন। সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, নিরাপদ ইন্টারনেট ও যাবতীয় নাগরিক সেবা আরো সহজ করা ছিল সরকারের ঐ সময়ের অন্যতম নির্বাচনী ইশতেহার। আইটি পণ্য রপ্তানি আয় বাড়ানো, প্রতিটি গ্রামকে শহরে পরিণত করাও ছিল প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, সরকার যখন ডিজিটাল বাংলাদেশের পরিকল্পনা গ্রহণ করে তখন দেশে মাত্র ২ কোটি মোবাইল ব্যবহারকারী ছিল, যা বর্তমানে ১৬ কোটির বেশি। দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বেড়েছে। বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন হচ্ছে। স্বল্প সময়ের পথ চলাতে এ আমাদের ব্যাপক অর্জন বলে মনে করি। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট আমাদের অন্যতম সাফল্য বয়ে এনেছে।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তার বক্তব্যে আরো বলেন, ১০ লাখেরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে। তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে চলমান রয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি। সরকারের আর একটি লক্ষ্য হলো—নারীদের ডিজিটাল ডিভাইসের বাইরে রাখা যাবে না। এরই মধ্যে দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ২৮টি হাই-টেক পার্ক স্থাপন করা হয়েছে। সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারে ৫ বিলিয়ন ডলার আয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। 

বর্তমানে ৫ হাজারের বেশি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেবা প্রদান করা হচ্ছে। দেশের যাবতীয় জাতীয় সেবাসমূহকে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।