কাপ্তাইয়ে এস এম চৌধুরী সড়ক
কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) সংবাদদাতা
কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনায় অবস্থিত ডা. এস এম চৌধুরী সড়কের বিভিন্ন স্থানে ঢালাই ভেঙ্গে লোহার রড উপরের দিকে উঠে এসে সৃষ্টি হয়েছে দুর্ঘটনার ফাঁদ। ঐ সড়কে চলতে গিয়ে পথচারী এবং যানবাহনকে প্রায় সময় দুর্ঘটনায় পড়তে হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আরসিসি ঢালাইয়ে করা সড়কটির কনক্রিট ভেঙে বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু রডের লম্বা অংশ বিশেষ বের হয়ে আছে। ওপরের দিকে উঠে আসা লোহার ভাঙা ধারালো অংশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর ওপর দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দার দুর্ঘটনায় পড়ছেন। আবার অনেক যানবাহনের চাকাও পাংচার হচ্ছে। জানা গেছে, সড়কটি রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের অধীনে রয়েছে।
চন্দ্রঘোনা দোভাষী বাজারে অবস্থিত একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক দ্বীন মোহাম্মদ জানান, ডা. এস এম চৌধুরী সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়কের ওপর দিয়ে প্রতিদিন শতশত ছোটো বড়ো যানবাহন চলাচল করে। কর্ণফুলী পেপার মিলে যাতায়াতের জন্য শ্রমিক-কর্মচারিরা এই সড়ক ব্যবহার করেন। এছাড়াও ব্যাপটিস্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তৈয়বিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা এবং কেপিএম স্কুলের শিক্ষার্থীরা এই সড়কের ওপর দিয়ে যাতায়াত করে। এভাবে বিপজ্জনক সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে যানবাহন ও পথচারীদের প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় পড়তে হচ্ছে।
কাপ্তাইয়ের একটি বেসরকারি সংস্থার নির্বাহী সদস্য স্টিফেন মিত্র বলেন, চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টিয়ান মিশন হাসপাতালে যাতায়াতের জন্য এই সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু হাসপাতাল গেইটের সামনের এই সড়কই এখন মৃত্যু ফাঁদ। দীর্ঘদিন সড়কটি সংস্কার না করায় সড়কের এক পাশ পার্শ্ববর্তী কর্ণফুলী নদীর দিকে দেবে গেছে। যে কোন মুহূর্তে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হবারও আশঙ্কা রয়েছে। এই সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল বন্ধ হলে কয়েক হাজার মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হবে বলেও তিনি জানান।
চন্দ্রঘোনা আইডিয়্যাল কেজি অ্যান্ড হাই স্কুলের পরিচালক ফিরোজ আলম চৌধুরী বলেন, সড়কে থাকা লোহার রডে আঘাত পেয়ে তিনি আহত হয়েছেন। ডায়াবেটিক রোগী হওয়ায় আঘাতের পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ ২ মাস ভর্তি ছিলেন। তার মতো আরো অনেকে এভাবে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন বলেও তিনি জানান।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশ্রাফ আহমেদ রাসেল বলেন, ডা. এস এম চৌধুরী সড়কের দুরবস্থার কথা আমরা শুনেছি। সড়কটি যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংস্কার করা হয় সে জন্য জেলা পরিষদ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অনুরোধ করা হবে বলেও তিনি জানান।
