বিপ্লব বিশ্বাস
২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে যাচ্ছি। আমাদের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তি হবে। এই দীর্ঘ সময়ে আমাদের জাতীয় জীবনে অনেক ঘটনা-দুর্ঘটনা, অর্জন-বিসর্জন, উত্থান-পতন ঘটেছে। একটি গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমাদের এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। জঙ্গিবাদ, মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে। দুঃখের বিষয় হলো, জিরোটলারেন্স নীতিতে অভিযান পরিচালনা করা হলেও মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির ব্যাপকতা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযানে চালিয়েও মাদকের বিস্তার রোধ করা যাচ্ছে না। মাদকাসক্তের সংখ্যাও বাড়ছে। মাদকের অভিশাপে শুধু ব্যক্তিজীবনই নয় বরং এক একটি পরিবারই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিপুল পরিমাণ মাদকসহ অপরাধীরা পড়লেও, অদৃশ্য কারণে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে!
সম্প্রতি দুর্নীতির বিরুদ্ধেও অভিযান চলছে এবং বেশ কয়েকজন দুর্নীতিবাজকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। এভাবে মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হচ্ছে না। গত কয়েক বছরে আর্থিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন হলেও মাদক,সন্ত্রাস ও দুর্নীতির কারণে সকল উন্নয়নই বিফলে যাচ্ছে। ব্যাপক দুর্নীতির কারণে এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তরাই উন্নয়নের সুফল ভোগ করছে। তারা খুব দ্রুত শত শত কোটি টাকার মালিকও হচ্ছে এবং বিদেশেও বিপুল অর্থ পাচার করছে। জেলা-উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত দুর্নীতিবাজদের প্রভাব রয়েছে বলেই মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। এদের কাছে দেশের মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। এদের বিরুদ্ধে কথা বলা বা অভিযোগ জানানোর সাহস কারো নেই।
স্বাধীনতার প্রায় ৪৮ বছর পর এই অবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কাজেই দেশ ও জাতির মঙ্গলের জন্যই দেশব্যাপী মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি বিরোধী অভিযানকে দলমত নির্বিশেষে সবার সমর্থন ও সহযোগিতা করতে হবে এবং এই অভিযানকে আরো গতিশীল করতে হবে। সারা দেশে অসংখ্য ব্রাদার, ফাদার ও গডফাদারের সৃষ্টি হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে নিতে হবে কঠোর ব্যবস্থা। দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দুর্নীতিমুক্ত করতে না পারলে মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের কোনো সুফলই পাওয়া যাবে না। মনে রাখতে হবে, মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত গডফাদারের সংখ্যা দেশের মোট জনসংখ্যার এক শতাংশেরও কম। কাজেই এদেরকে চিহ্নিত করা কঠিন কাজ নয়। আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবেও বয়কট করতে হবে এদের। সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে এদের বিরুদ্ধে। ২০২১ সালে আমরা যাতে মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি মুক্ত পরিবেশে স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরপূর্তি অর্থাত্ সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করতে পারি, সে লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে।
ফরিদপুর
