‘সাংস্কৃতিক উন্নয়ন না ঘটলে রাষ্ট্রের উন্নয়ন ভেস্তে যাবে’

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৫৫

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের বিজয় উত্সব শুরু

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বিজয় উত্সবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, পদ্মা সেতু কতটা দৃশ্যমান হলো তার চেয়ে বেশি জরুরি আমাদের মানুষের সাংস্কৃতিক উন্নয়ন কতটা হলো। আমরা চাই, সম্পদের সুষম বণ্টন হোক। অর্থনীতির বৈষম্য যেন কমে আসে। গতকাল শুক্রবার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের চার দিনব্যাপী বিজয় উত্সবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

তারা বলেন, মানুষের সাংস্কৃতিক উন্নয়ন না ঘটলে, রাষ্ট্রে যত উন্নয়ন কর্মসূচিই হাতে নেওয়া হোক সবই ভেস্তে যাবে। কেবল অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না, মানুষের সাংস্কৃতিক চেতনাকে জাগ্রত করতে হবে। মানুষের সাংস্কৃতিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।’ ‘বিজয়ের অঙ্গীকার, সাংস্কৃতিক অধিকার’ স্লোগান নিয়ে গতকাল থেকে শুরু হয়েছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে বিজয় উত্সব। গতকাল শুক্রবার বিকাল ৪টায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে বেলুন উড়িয়ে বিজয় উত্সবের উদ্বোধন করেন রামেন্দু মজুমদার। পরে আলোচনা সভায় সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছের সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন মুক্তিযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ, পথনাটক পরিষদের সভাপতি মান্নান হীরা। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. মোহাম্মদ সামাদ, গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ফকির আলমগীর, আহাম্মেদ গিয়াস, আক্তারুজ্জামান প্রমুখ। বিজয় উত্সবের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহকাম উল্লাহ। স্বাগত বক্তৃতা দেন সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শহিদ মিনারের বেদিতে ফুল দিয়ে এবং বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সম্মেলক কণ্ঠে ‘জাতীয় সংগীত’ ও ‘আমরা সবাই বাঙালি’ গান দুটো পরিবেশন করেন শিল্পীরা। এছাড়া আলোচনার ফাঁকে স্পন্দনের শিল্পীরা ‘বিজয় নিশান উড়ছে ওই’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন—সমর পড়ুয়া, আরিফ রহমান, আবিতা রহমান সেতু। পথনাটক পরিবেশন করে সুবচন নাট্য সংসদ। সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ জানান, ১৪ থেকে ১৬ ডিসেম্বর শহিদ মিনারসহ ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর, রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ, দনিয়া ও মিরপুরে প্রতিদিন উত্সবের কর্মসূচি হিসেবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে বিজয় শোভাযাত্রা বের করা হবে।