স্মরণসভায় বক্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
ছিলেন স্থপতি ও কবি। যুক্ত ছিলেন দেশের চারটি জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের সঙ্গে। তবুও এসব ছাপিয়ে রবিউল হুসাইন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২৩ বছর আগে রাজধানীর সেগুনবাগিচার প্রায় জরাজীর্ণ এক ভবনকে নিজ স্থাপত্যশৈলীতে তিনি পরিণত করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে। কালপরিক্রমায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরটি যখন আগারগাঁওয়ের সিভিক সেক্টরে বৃহত্ কলেবর নিয়ে হাজির হলো, তার নেপথ্যেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি রবিউল হুসাইন। সদ্যপ্রয়াত কবি রবিউল হুসাইন স্মরণে গতকাল জাতীয় জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এতে রবিউল হুসাইনকে স্মরণ করে বক্তব্য রাখেন তার ভাই তাঈমুর হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী, সারা যাকের, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, কবি তারিক সুজাত প্রমুখ।
তাঈমুর হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ছিল তার প্রাণ। যখনই জানতে চাইতাম ফোনে, কোথায় আছেন? তিনি বলতেন, আমি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আছি। তাই একে বলা যায় তার সেকেন্ড হোম।
সারওয়ার আলী বলেন, নব্বই দশকের শেষভাগে ‘একাত্তরের যাত্রী’ নামে যে সংগঠনটি রবিউল হুসাইন শুরু করেছিলেন, তার জন্য মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ ও প্রচারের কাজ করতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অঙ্গনের আট ব্যক্তিত্ব। সেগুনবাগিচায় ট্রাস্টি আক্কু চৌধুরীর বোনের বাড়িটি ছিল বড্ড সেকেলে। স্থপতি রবিউল হুসাইন বাড়িটির অন্দরসাজ বদলে দিয়ে শুরু করে দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠার কাজ। রামেন্দু মজুমদার বলেন, তিনি বড়ো মাপের কবি ছিলেন, ছিলেন স্থপতি। তবে এ নিয়ে তিনি কখনো উচ্চবাচ্য করতেন না। তিনি প্রকৃত অর্থেই নিভৃতচারী ছিলেন।
