বেশি ম্যাচ পাচ্ছে মোহামেডান

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:০৪

গ্রুপ এ :আবাহনী, আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ, পুলিশ ফুটবল ক্লাব।

গ্রুপ বি :বসুন্ধরা কিংস, চট্টগ্রাম আবাহনী, ব্রাদার্স ইউনিয়ন।

গ্রুপ সি :সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব, রহমতগঞ্জ।

গ্রুপ ডি :শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মোহামেডান এবং উত্তর বারিধারা ক্লাব।

স্পোর্টস রিপোর্টার

ফেডারেশন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ১৮ ডিসেম্বর বুধবার শুরু হবে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী দিনে একটি ম্যাচ। পরদিন হতে দুটি করে ম্যাচ। চার গ্রুপে ১৩টি দল খেলবে। ৪ জানুয়ারি ফাইনাল। গতকাল বিকালে বাফুফে ভবনে ৩১তম ফেডারেশন কাপের ড্র অনুষ্ঠিত হয়। আজ ফিকশ্চার ঘোষণা করার কথা রয়েছে। চ্যাম্পিয়ন দল ৫, রানার্সআপ ৩ লাখ এবং ১৩ দলকে দেওয়া হবে ১ লাখ টাকা করে।

ফেডারেশন কাপ ফুটবলের ড্র অনুষ্ঠানে সবার নজর পড়ল মোহামেডানের দিকে। কোনো দলের কোচ আসেনি ড্র অনুষ্ঠানে। মোহামেডানের ইংলিশ কোচ শেন লিন ফুটবল ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকিবের হাত ধরে সবার আগে ড্র অনুষ্ঠানে হাজির। অন্যান্য ক্লাবের প্রতিনিধি কিংবা কর্মকর্তারা বাফুফে ভবনে গিয়েছিলেন ড্র অনুষ্ঠানে। অন্যান্য ক্লাব গ্রুপ পর্বে দুটি করে ম্যাচ পেলেও মোহামেডান গ্রুপে একটি ক্লাব তিনটি করে ম্যাচ পাচ্ছে। কারো জন্য এটি একটু বেশি হলেও খুশি হয়েছেন মোহামেডান কোচ শেন লিন। তিন ম্যাচ পাবেন বলে মোহামেডান কোচ খুশি হয়েছেন। কেন? শেন লিন বলছেন, ‘আপনারা সবাই জানেন ক্লাবটির ফুটবল শক্তি। ২০ জনের বেশি খেলোয়াড় রয়েছেন যারা একেবারে আনকোরা। এদের নিয়ে গড়ে তুলে আমাকে একটা যুদ্ধে নামতে হবে। কথার কথা বলছিল। যুদ্ধের আগে নিজেদের শক্তিটা কেমন, সেটা জানতে ফেডকাপে গ্রুপের তিন ম্যাচ খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই তিনটা ম্যাচ আমার লিগের প্রস্তুতির জন্য কাজে আসবে।’ তার মানে কি ফেডকাপে মোহামেডানের টার্গেট নেই? কোচ বললেন,‘না না। আমরা আমাদের শক্তি সামর্থ্য নিয়ে বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে এগিয়ে যেতে চাই। মোহামেডান চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে কি না তা মোহামেডান সমর্থকরা পরিষ্কার বুঝতে পারবেন। আমি সেটা কথা বলতে চাই না। আমি এগিয়ে যেতে চাই। মাঠে আমি আমার খেলোয়াড় এবং দলের কর্মকর্তারা পরিশ্রম করে যাচ্ছি সুফল পাব বলেই কাজ করছি সবাই। আশাকরি সমর্থকরা আমাদের পাশে থাকবেন।’

টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী মোহামেডানের গ্রুপে একটি ক্লাব তিনটি করে ম্যাচ পেলেও অন্যান্য গ্রুপের ক্লাবগুলো এক ম্যাচ জিতলেই কোয়ার্টার ফাইনালে অর্ধেক এগিয়ে যাবে।

আবাহনীর মূল লড়াইটা হবে পুলিশের নবাগত দল পুলিশের বিপক্ষে। এক সময় প্রথম বিভাগ ফুটবলে দাপটের সঙ্গে খেলেছিল পুলিশ ফুটবল দল। সেই দলটি বহু বছর পর আবার ফুটবলের বড়ো আসরে ফিরেছে। শক্তিশালী দলও গড়েছে। নানা দেশ হতে বিদেশি খেলোয়াড় এনে ট্রায়াল নিয়ে খেলোয়াড় বাছাই করেছে। ইউরোপীয়ান কোচ এনে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।

পুলিশ ফুটবল দলকে দুর্বল মনে করার সুযোগ কম। দলের ম্যানেজার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শেখ মারুফ হাসান জানিয়েছেন তারা ভালো খেলা উপহার দিতে চান। শক্তির তুলনা প্রশ্নে বাফুফের পুলিশ ক্লাবের ম্যানেজার বাফুফের সাবেক সদস্য মারুফ হাসান বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা হবে।’ সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘দুই দলে উত্তেজনা, বাক্য বিনিময় পরবর্তীতে সেটি হাতাহাতিতে চলে যায়। আমাদের দেখতে হবে বিরোধ, সংক্ষুব্দতার সূত্রপাত কোথায়। এখানে রেফারিদের প্রতি সম্মান রেখেই বলব দুর্বল রেফারিং অথবা পক্ষপাতিত্ব রেফারিংয়ের কারণে দুই দলের মধ্যেই অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে। অনেক সময় এক ক্লাবের অনেক সমর্থক রয়েছে। তারা উত্তেজনা নিয়ে আসেন। আবার অনেক ক্লাবের সমর্থক নেই। আমাদের ভেতরের এই যে উত্তেজনা, এটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এই দায়িত্ব আমাদের সকলের। ফেডারেশন, খেলোয়াড়, রেফারি, লিগ কমিটি সবার, আমাদেরও দায়িত্ব আছে। আমারও দাবি আমরা যেন সকলে মাথাটা ঠান্ডা রেখে পজিটিভ ফুটবলের দিকে এগিয়ে যাই।’