ইউরোপা লিগ
স্পোর্টস ডেস্ক
ইউরোপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্লাব টুর্নামেন্টে ব্রিটিশ দলগুলোরই জয়জয়কার। গত বৃহস্পতিবার রাতে শেষ হওয়া গ্রুপ পর্বের পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আর্সেনাল, সেল্টিক, রেঞ্জার্স ও উলভস ৩২ দলের দ্বিতীয় রাউন্ডে যোগ দেয়।
লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটি, চেলসি ও টটেনহ্যাম হটস্পার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলয় যোগ দেওয়ার পর এই কৃতিত্ব দেখাল এই ক্লাবগুলো। এর মানে সব মিলিয়ে ৯টি ব্রিটিশ ক্লাব এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ইউরোপে জায়গা করে নিল।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ইউরোপা লিগে নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে আল্কমারকে ৪-০ ব্যবধানে হারিয়ে ‘এল’ গ্রুপের সেরা দল হয়েই নকআউটে চলে গেছে। ইউনাইটেডের মতো জয় পায়নি আর্সেনাল। তবে স্ট্যান্ডার্ড লিয়েগের বিপক্ষে ২-২ ড্র তাদের ‘এফ’ গ্রুপের সেরা দল বানিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে তোলার জন্যে যথেষ্ট ছিল। স্প্যানিশ দল সেভিয়া ও এস্পানিয়ল নিজ নিজ ম্যাচে হারলেও যথাক্রমে ‘এ’ ও ‘এইচ’ গ্রুপের সেরা দল হয়েই নকআউটে পৌঁছেছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে নিষ্প্রাণ প্রথমার্ধের পর ৫৪ মিনিটে ম্যানইউকে এগিয়ে দেন অ্যাশলে ইয়ং। এরপর পাদপ্রদীপের আলোটা কেড়ে নেন তরুণ ইংলিশ ফরোয়ার্ড ম্যাসন গ্রিনউড। ৫৮ আর ৬৪ মিনিটে তার জোড়া গোলের মাঝে পেনাল্টি থেকে হুয়ান মাতার লক্ষ্যভেদ বড়ো জয় পাইয়ে দেয় ইউনাইটেডকে।
এর ফলে ডাচ দল আল্কমারকে পেছনে ফেলে এল গ্রুপের শীর্ষে থেকেই দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করে ইউনাইটেড। দ্বিতীয়ার্ধে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কোচ ওলে গুনার সোলসার বলেন, ‘বিরতির সময় তাদের ইউনাইটেড সুলভ খেলতে বলেছিলাম। আমি জানি, পরিবর্তন আনলে সেটার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটা খেলোয়াড়দের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে, কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আমরা একটা ছন্দ খুঁজে পেয়েছিলাম, এবং সামনে অনেক বেশি পাস দিচ্ছিলাম। ফলে সামনের দিকে আরো বেশি দৌড়াচ্ছিলাম, চাপ সৃষ্টি করছিলাম এবং গোলগুলো সে কারণেই এসেছে।’
ম্যাচটিতে জোড়া গোলের ফলে চলতি মৌসুমে ইউনাইটেডের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে গেছেন গ্রিনউড। এমন পারফরম্যান্সের ফলে ইতিমধ্যেই কিংবদন্তি ওয়েইন রুনির সঙ্গে তুলনা শুরু হয়ে গেছে তার। তবে সোলসার জানালেন ভিন্ন ঘরানারই খেলোয়াড় তিনি, ‘সে ভিন্ন ঘরানার ফিনিশার, ওয়াজ্জা (রুনি) থেকে আলাদা। সে নিজের জন্য ফাঁকা জায়গা বানাতে পারে এবং দুই পায়েই দক্ষ। তার পারফরম্যান্সে বেশ খুশি আমি।’
এদিকে আর্সেনাল প্রতিপক্ষের মাঠে পিছিয়েই পড়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে স্যামুয়েল বাস্তিয়েন ও সেলিম আমাল্লাহ’র গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ৭৮ আর ৮১ মিনিটে আলেক্সান্দার লাকাজেত ও বুকায়ো সাকার গোলে ড্র করে আর্সেনাল। নিশ্চিত করে গ্রুপ শ্রেষ্ঠত্বও।
স্প্যানিশ দল সেভিয়া প্রতিপক্ষের মাঠে ৬১ মিনিটে হজম করা গোলে হারে। ১-০ গোলে হারের পরও ‘এ’ গ্রুপের সেরা হয়েই পরের পর্ব নিশ্চিত করেছে হুলেন লোপেতেগুইর দল। এদিকে এস্পানিওলও এদিন একই ভাগ্য বরণ করে। রাশান দল সিএসকেও মস্কোর কাছে ১-০ গোলে হারলেও ‘এইচ’ গ্রুপের সেরা দল হয়ে পরের পর্বে চলে যায় তারা।
