‘পাখিদের বন্ধু কাউখালির জয়দেব’

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:২৬

ভোরের সূর্যের আলো ফোটার আগেই ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরা ছুটে আসে ‘পাখি দা’ জয়দেবের কাছে। দিনের শুরুর আহারের জোগানটা যে সেখান থেকেই হয়ে যায়। এ কারণেই শতশত পাখি তাকে ঘিরে ধরে থাকে; এক ফোঁটাও ভয় পায় না ‘পাখি দা’ নামে এলাকায় পরিচিত কাউখালীর কলেজ পড়ুয়া জয়দেবকে। বরং তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক অদৃশ্য বন্ধুত্বের বন্ধন। গত দশ বছর ধরে জয়দেব রায় ও তার বাবা গোবিন্দ রায় মিলে পাখিদের নিয়মিত খাইয়ে চলেছেন।

জয়দেব ও তার বাবার এমন পাখির প্রতি ভালোবাসা এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসীর কাছেও বিষয়টি বেশ উপভোগের। সকাল বেলা পাখিদের জন্য খাবার ছিটিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝাঁক বেঁধে ছুটে আসে পাখির দল। জয়দেবের চারপাশে তখন পাখিদের ডানা ঝাপটানোর শব্দ, আর কিচির মিচির ডাকে মুখরিত হয়ে ওঠে। প্রতিবেশীদেরও রোজ ঘুম ভাঙে পাখিদের কিচির মিচির শব্দে। কাউখালী উপজেলার দক্ষিণবাজার সররকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে রোজ ভোরে বসে এই পাখিমেলা। পাখিদের দলে থাকে কবুতর, কাক, চড়ুই, দোয়েল, কবুতরসহ হরেক জাতের পাখি।

পাখিদের খাওয়ানোর জন্য তাদের বেশ ভালোই প্রস্তুতি নিতে হয় বাবা-ছেলেকে। জয়দেবদের একটি রেস্টুরেন্ট আছে। নাম স্বর্ণচূড়া। ঐ রেস্টুরেন্ট থেকেই তৈরি করা হয় পাখিদের খাবার। পরোটা, রুটি ইত্যাদি আলাদা করে ভেজে রাখে দোকানের কর্মচারীরা। প্রতিদিন কাজ শেষে এই খাবারগুলো তৈরি করে রাখে। সকাল হলেই বাবা কিংবা ছেলে এসে পাখিদের খাবার দিয়ে যান। প্রতিদিন পাখির খাবারের জন্য প্রায় ৪০০ টাকা খরচ হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি আসে সকাল বেলা। খাবার খেয়ে আবার চলে যায়। পাখিগুলো যখন আসে এলাকা সরগরম হয়ে ওঠে। প্রায় ১ থেকে দেড় হাজার পাখির দলবেঁধে আসা যাওয়া চলে। বিষয়টা দারুণ।