চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে বিদ্রোহ করা ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের ২১ এমপিকে গত ৪ সেপ্টেম্বর বরখাস্ত করেছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। পদত্যাগ করেছিলেন বরিস জনসনের ছোটো ভাই তত্কালীন সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী জো জনসন। সেই কনজারভেটিভ দলের বিদ্রোহীদের মধ্যে কয়েকজন বৃহস্পতিবারের জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তারা প্রায় সবাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে লড়েন। কিন্তু ভাগ্য প্রসন্ন হয়নি তাদের। তাদের মধ্যে কয়েকজন ধরাশায়ী হয়েছেন। কয়েকজন সফল হয়েছেন। জো জনসনসহ বেশিরভাগই নির্বাচনে অংশ নেননি। দল থেকে বরখাস্ত হওয়ার ফলে সেই এমপিরা কনজারভেটিভ দল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে যারা পরাজিত হয়েছেন তার মধ্যে রয়েছেন সাবেক আইনমন্ত্রী ডেভিড গাউকে, সাবেক এটর্নি জেনারেল ডমিনিক গ্রিয়েভ এবং সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যানি মিল্টন। লিবারেল ডেমোক্রেট দলের কাছে পরাজিত হয়েছেন স্যাম গাইমাহ এবং অ্যান্টাইনেত্তে সান্ডব্যাচ। তবে নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র চারজন। তারা হলেন গ্রেগ ক্লার্ক, স্টিফেন হ্যামন্ড, ক্যারোলাইন নোকস এবং স্টিভ ব্রাইন। বাকিরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। এর মধ্যে রয়েছেন সাবেক চ্যান্সেলর ফিলিপ হ্যামন্ড, হাউজ অব কমন্সের ফাদার কেন ক্লার্ক, উইন্সটন চার্চিলের উত্তরসূরি স্যার নিকোলাস সোমস, সাবেক মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মন্ত্রী অ্যালিস্টার বার্ট, সাবেক মন্ত্রীপরিষদ বিষয়ক মন্ত্রী স্যার অলিভার লেটউইন, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী জাস্টিন গ্রিনিং, সাবেক ডিজিটাল বিষয়ক মন্ত্রী মারগট জেমন প্রমুখ। বরিস জনসনের ছোটো ভাই জো জনসন। জো দক্ষিণ লন্ডনের অর্পিংটন থেকে এমপি হয়ে আসছিলেন। তিনি আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে তার দলের গ্যারেথ বেকন বিজয়ী হয়েছেন।
প্রসঙ্গত যে, চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে বিদ্রোহ করা ২১ এমপির মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের প্রপৌত্র স্যার নিকোলাস সোয়ামসও ছিলেন। ঐ ২১ জন এমপি নিজ দলের প্রধানমন্ত্রী জনসনের বরখাস্ত করার হুমকি উপেক্ষা করে বিরোধীদের সঙ্গে যোগ দেন। তারা চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিটের বিরুদ্ধে ভোট দেন। এতে ৩২৮-৩০১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন বরিস জনসন। ফলে ঐ ভোটের পরই এসব এমপিকে তিনি বরখাস্ত করেন। ফলে এসব রাজনীতিক বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে কনজারভেটিভ দল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি। যেসব এমপি বিদ্রোহ করেছিলেন তারা হলেন, গুটো বেব, রিচার্ড বেনিওন, স্টিভ ব্রাইন, অ্যালিস্টার বার্ট, গ্রেগ ক্লার্ক, কেন ক্লার্ক, ডেভিড গাউকে, জাস্টিন গ্রিনিং, ডমিনিক গ্রিয়েভ, স্যাম গিমাহ, ফিলিপ হ্যামন্ড, স্টিফেন হ্যামন্ড, রিচার্ড হ্যারিংটন, মারগট জেমস, অলিভার লেটউইন, অ্যানি মিলটন, ক্যারোলাইন নোয়াকস, অ্যান্টোনেটে স্যান্ডব্যাচ, নিকোলাস সোয়ামস, রোরি স্টিওয়ার্ট ও এড ভাইজে। এর মধ্যে তেরেসা মের অধীনে মন্ত্রী ছিলেন ফিলিপ হ্যামন্ড, গ্রেগ ক্লার্ক ও রোরি স্টিওয়ার্ট।
লন্ডনে লেবার পার্টির আসন বেড়েছে
গোটা ব্রিটেনে ফলাফল ইতিবাচক না হলেও বিরোধী দল লেবার পার্টি রাজধানী লন্ডনে মোট ৭৩টি আসনের মধ্যে বিজয়ী হয়েছে ৪৯টি আসনে। ফল হয়েছে ২০১৭ সালের মতো। বিবিসি জানাচ্ছেন, নির্বাচনে আগের চেয়ে লেবার দল তিনটি আসন বেশি পেয়ে মোট আসন হয়েছে ৪৯টি। এখানে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও লেবার নেতা জেরেমি করবিন নিজেদের আসনে বিজয়ী হয়েছেন। লন্ডনে জনসনের কনজারভেটিভ পার্টি বিজয়ী হয়েছে ২১ আসনে। এখানে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ কেনসিংটন আসনটি পেয়েছে তারা। রিচমন্ডে নাটকীয় জয় পেয়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটরা। নির্বাচনের আগে তাদের আসন ছিল চারটি। কিন্তু নির্বাচনে সেখান থেকে একটি আসন হারিয়ে তাদের আসন সংখ্যা এখন তিন।
