আজ সাভার মুক্ত দিবস। কিশোর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ গোলাম মোহাম্মদ দস্তগীর টিটোর আত্মদানের মহিমায় ভাস্বর এই দিন। চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে ১৪ ডিসেম্বর শত্রুমুক্ত হয়েছিল সাভার উপজেলা। হানাদার বাহিনী যখন মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে নাস্তানাবুদ হয়ে পালানোর পথ খুঁজছে, এমনি এক সময় পশ্চাদপসরণরত পাকবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচণ্ড সম্মুখ সমরে শহিদ হন কিশোর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোহাম্মদ দস্তগীর টিটো। সাভার হয় শত্রুমুক্ত।
১৯৭১ এ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণেচ্ছু কিশোর টিটোকে প্রশিক্ষণ শেষে প্রথমে পাঠানো হয় সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফের বাহিনীতে। পরে সেখান থেকে তাকে পাঠানো হয় ঢাকায়। টিটো যোগ দেন ঢাকার গেরিলা কমান্ডার নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর গ্রুপে। এই গেরিলা গ্রুপের সঙ্গে টিটো ডিসেম্বরের ৮ তারিখে সাভার থানার ইয়ারপুর গ্রামে এসে অবস্থান নেন। পাক বাহিনীর ৪০/৫০ জনের একটি ছোটো দল টাঙ্গাইল থেকে বিতাড়িত হয়ে ১৪ ডিসেম্বর সকালে ঢাকার পথে জিরাব গ্রামে পৌঁছলে তাদের পথরোধ করে দাঁড়ায় শহিদ টিটোর গেরিলা দল। হাতের কাছে চলে আসা শত্রু বাহিনীর ভীত-সন্ত্রস্ত দলটিকে পিষে মারার প্রতিজ্ঞা নিয়ে সম্মুখযুদ্ধে প্রাণ বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়ে নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর নেতৃত্বাধীন ‘মানিক গ্রুপ’ নামে খ্যাত টিটোদের গেরিলা গ্রুপটি। এই যুদ্ধে পাক সেনাদের দলটির অধিকাংশ সদস্যই সাভারের মাটিতে প্রাণ হারায়। যুদ্ধ চলাকালীন চার/পাঁচ জন পাকসেনাকে হত্যার পর সাফল্যের আনন্দে উচ্ছ্বসিত কিশোর গেরিলা টিটো সহযোদ্ধাদের নিষেধ উপেক্ষা করে একাই এগিয়ে যেতে থাকেন সামনের ঘাপটি মেরে থাকা শত্রু হননের লক্ষ্যে। হঠাত্ পাকবাহিনীর এক ঝাঁক তপ্ত বুলেটের আঘাতে লুটিয়ে পড়েন টিটো। মুমূর্ষু টিটোকে সহযোদ্ধারা উদ্ধার করে দ্রুত পার্শ্ববর্তী ডেইরি ফার্মে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে টিটোর দেহ থেকে রক্তক্ষরণ কোনোভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছিল না। অসীম সাহসী মুক্তিযোদ্ধা টিটোর প্রাণস্পন্দন ধীরে ধীরে থেমে যায়। মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বে ও টিটোর আত্মদানে সাভার হয় শত্রুমুক্ত। বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ টিটোকে সাভারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপরীতে ডেইরি গেটে সমাহিত করা হয়েছে।
