একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লাকে ‘শহিদ’ লেখায় দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার পত্রিকা কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা। এরপর ঐ পত্রিকার সম্পাদক আবুল আসাদকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন তারা। গতকাল শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে বড়ো মগবাজার এলাকায় স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামির মুখপত্র হিসেবে পরিচিত দৈনিক সংগ্রামের কার্যালয় ঘেরাও করেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ব্যানারে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা। এর আগে গতকাল দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ সমাবেশের পাশাপাশি সংগ্রাম পত্রিকার কয়েকটি কপি পোড়ায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। উল্লেখ্য, শুক্রবার দৈনিক সংগ্রামের প্রথম পাতায় ‘শহিদ আবদুল কাদের মোল্লার ৬ষ্ঠ শাহাদতবার্ষিকী আজ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়।
জানা গেছে, গতকাল বিকালের দিকে কার্যালয়ের ফটকে তালা ঝুলিয়ে সামনে অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধরা। এ সময় তারা ‘দৈনিক সংগ্রাম’ পত্রিকা পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানান এবং সম্পাদককে গ্রেফতারসহ পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধের দাবি জানান। এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে সংগ্রামের কার্যালয় থেকে সম্পাদক আবুল আসাদকে হেফাজতে নিয়ে যায় হাতিরঝিল থানা পুলিশ। এদিকে, কার্যালয়ের ভেতরে বিক্ষুব্ধরা ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন পত্রিকাটির সংবাদকর্মীরা। আর সম্পাদক আবুল আসাদকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিক্ষুব্ধরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়।
এ ব্যাপারে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস করতে পারি না। যে কেউ স্বাধীনতা বা মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বললে আমরা তা প্রতিহত করবই। তিনি আরো বলেন, দৈনিক সংগ্রামের কার্যালয়টি জামায়াত-শিবিরের অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। আমরা এমন প্রমাণ পেয়েছি, আমরা সেসব প্রমাণ পুলিশকে দেখিয়েছি। আমরা সম্পাদককে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছি। সম্পাদক তখন জনতার সামনে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন।
আল মামুন আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংগ্রাম পত্রিকার ‘ডিক্লারেশন’ বাতিল না করা হলে তারা আরো কঠোর কর্মসূচি দেবেন। এদিকে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদকে হাতিরঝিল থানায় নেওয়া হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গতকাল দুপুরে ঢাবিতে সমাবেশে ছাত্রলীগের সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক রানা হামিদ বলেন, স্বীকৃত রাজাকার, যুদ্ধাপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কাউকে যখন স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরেও শহিদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, তখন আমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যত্ নিয়ে চিন্তিত। এই বিষবাষ্প যাতে আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে প্রভাবিত করতে না পারে তাই এখনি সময় এদের রুখে দেওয়া। তিনি বলেন, এই ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের জন্য আমরা এই পত্রিকার সম্পাদকের শাস্তি দাবি করছি। একই সঙ্গে এই পত্রিকা বাজেয়াপ্ত করার দাবি করছি। ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নামিজ উদ্দীন, সাবেক পরিবেশ সম্পাদক ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী সজীব, সাবেক উপ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ইমদাদ হোসেন সোহাগসহ কয়েকজন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ঐ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
