ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান শহিদ বুদ্ধিজীবীদের জীবনাদর্শ অনুসরণ করে উদার, অসাম্প্রদায়িক ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল শনিবার শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। দিবসটি উপলক্ষ্যে এর আগে সকাল ৭টায় উপাচার্য ভবনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান ভবনে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। বেলা ৮টায় শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে জমায়েত, বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থান, জগন্নাথ হল স্মৃতিসৌধ ও বিভিন্ন আবাসিক এলাকার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এছাড়াও বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদসহ বিভিন্ন হল মসজিদ ও উপাসনালয়ে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও প্রার্থনা করা হয়।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান শহিদ বুদ্ধিজীবীদের অমর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এদেশের বুদ্ধিজীবীরা অসাম্প্রদায়িক, উদার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করতে পাকিস্তানি বাহিনী ও তার দোসররা ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পরিকল্পিতভাবে তাদের হত্যা করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম, শহিদ গিয়াস উদ্দিন আহমেদের বোন অধ্যাপক সাজেদা বানু, ডাকসুর ভিপি মো. নুরুল হক, মুক্তিযোদ্ধা প্রাতিষ্ঠানিক ইউনিট কমান্ডের সদস্য অধ্যাপক আবু জাফর মো. ছালেহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আমিরুল ইসলামসহ শহিদ পরিবার কল্যাণ সমিতি, তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী সমিতি, কারিগরি কর্মচারী সমিতি এবং চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
