প্লাস্টিকের ব্যবহূত বোতল ফেরত নিলে বাঁচবে পরিবেশ

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৩৮

পরিবেশ বাঁচাতে ব্যবহূত প্লাস্টিকের খালি বোতল ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। বোতলের মধ্যে লেখা থাকবে যে, খালি বোতল ফেরত দিলে ১ টাকা। তাহলে দেখা যাবে কারো কাছে ২০টি বোতল থাকলে তিনি ২০ টাকার জন্য এটি ফেরত দেবেন। এটা করতে পারলে মানুষ উদ্বুদ্ধ হবে, আর আমরাও শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে পারব। গতকাল রবিবার মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘বিডি ক্লিন’ আয়োজিত প্লাস্টিক বোতল নিয়ে প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বক্তারা।

বক্তারা বলেন, প্লাস্টিক পণ্য ডিকম্পোস্ড বা পচতে প্রায় ৪৫০ বছর লাগে। প্লাস্টিক মাটির উর্বরতা নষ্ট করে, গ্রিন হাউজ গ্যাস তৈরি করে, সামুদ্রিক জীবন ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে। বিশ্বে প্রায় ৯.৬ বিলিয়ন বা ৯৬০ কোটি টন প্লাস্টিক রয়েছে, এর মাত্র ১০ শতাংশ রিসাইকেল করা হবে। অবশিষ্ট ৯০ শতাংশ প্লাস্টিক আমাদের পরিবেশে থেকে যাবে। এটি আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য উদ্বেগজনক।

অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন,  ৩০ লাখ শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য এ ব্যতিক্রমী প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের এ বিষয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে  তিনি বলেন, ব্যবসায় করবেন, অথচ সমাজকে কিছু দেবেন না এটা হতে পারে না। বিজয় দিবসের প্রাক্কালে মেয়র সবাইকে এ শহর পরিষ্কার রাখা এবং যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ঢাকা বিমানবন্দরে ২৫ টাকার পানির বোতল ব্যবহার শেষে ফেরত দিলে ৫ টাকা পাওয়া যায়। প্লাস্টিক পণ্য উত্পাদনকারী যেসব প্রতিষ্ঠান আছে, তাদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। আমরা চাই এ ধরনের একটি প্রচারণা আপনারা চালু করুন। ৩০ লাখ শহিদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক দূষণকারী প্লাস্টিক বোতল দিয়ে সাজানো জনসচেতনতামূলক এ প্রদর্শনীতে বানানো হয়েছে প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে তৈরি নৌকা, প্লাস্টিকের বোতলের ঢাকনা দিয়ে তৈরি  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি, বাংলাদেশের মানচিত্র, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, রয়েল বেঙ্গল টাইগারের প্রতিকৃতিসহ পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বোতলের তৈরি নানান রকমের সামগ্রী।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন, ডিএনসিসির সচিব রবীন্দ্র শ্রী বড়ুয়া, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মঞ্জুর হোসেন। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. নাসির, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিজ্ঞানী ড. মঈন সরকার প্রমুখ।