মাঠের খেলায় প্রমাণ করতে চায় পুলিশ

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৪৫

স্পোর্টস রিপোর্টার

পুলিশ আবারও দেশের ফুটবলে নাম লিখিয়েছে। বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রিমিয়ার ফুটবলের বড়ো আসরে জায়গা করে নিয়েছে। ফুটবলের বড়ো মঞ্চে স্থায়ী আসন চায় পুলিশ ক্লাব। দলের ম্যানেজার শেখ মারুফ হাসান জানিয়েছেন মাঠের খেলায় নিজেদের প্রমাণ করবে পুলিশ।

অনেক ঘষেমেজে দল গড়া হয়েছে। খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স যাচাই-বাছাই করে নেওয়ার আগে ইউরোপীয়ান কোচ নিকোলা ভিক্ট্রোভিককে এনে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই কোচ আগের মৌসুমে ব্রাদার্সের দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকার মাঠে অভিজ্ঞতা থাকলেও তাকে চূড়ান্ত করার আগে পুলিশ ফুটবল ক্লাবের ম্যানেজার মারুফ হাসান প্রায় আড়াই ঘণ্টা কোচের সঙ্গে বৈঠক করেন। কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে কোচ নিকোলাকে তার পছন্দ হয়েছে। তাকে শুধু একজন কোচই মনে করছেন না মারুফ। সঙ্গে দেখেছেন এই কোচের কাজের ধরন। মারুফ হাসান বললেন, ‘আমরা যে কোচটি নিয়েছি তিনি কমার্শিয়াল না। পুরোদমে একজন পেশাদার কোচ। তার দ্বারা বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা অনেক কিছু শিখতে পারবে।’ কোচ কিভাবে কাজ করে সেটা মাঠে বসে দেখেছেন তিনি। কি ছিল অভিজ্ঞতা ? মারুফ হাসান বললেন, খেলাধুলা বাদ দিলেও কোচ নিকোলার অনেক মানবিক গুণাবলি রয়েছে। খেলোয়াড়দের সঙ্গে খুবই পজিটিভ কথা বলেন। উজ্জীবিত করেন। একজন খেলোয়াড় কোচের চাওয়া অনুযায়ী না পারলে তার কাছ থেকে কিভাবে খেলাটা আদায় করা যায় সেটা নিয়ে শিক্ষকের মতো হাতে-কলমে শেখানোর চেষ্টা করেন। ফলে দেখা যায়, যে পারে না সেও তখন পারদর্শিতা দেখাতে পারছে। অপচয় করে না। অপব্যয় করে না। আমরা যে একটা দল তার হাতে দিয়েছি সেটাকে চাকরি মনে করে না। তিনি তার দল মনে করে কাজ করেন। এ কারণেই আস্থা রাখতে পারছি।’

ফেডারেশন কাপ ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচে বুধবার মাঠে নামবে আবাহনী ও পুলিশ। ২০০৯ সালে ফেডারেশন কাপ ফুটবলের গ্রুপ পর্বে এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল। হেরেছিল পুলিশ। তারও আগে ৯৬ সালে মিরপুর স্টেডিয়ামে আবাহনী-পুলিশ মুখোমুখি হয়। সেবারও ১-০ গোলে হার।  গোলদাতা গোলাম গাউস জানালেন সেই ম্যাচে মোনেম মুন্না, আসলাম ভাইও খেলেছিল। ৮৬ মিনিটে গোল পাই। পুলিশ আবার ফুটবলে এসেছে শুনে গাউস দারুণ খুশি। গাউসের ধারণা পুলিশ এবার টেক্কা দেবে। ভালো পজিশনে যাবে। আর মারুফ বললেন, ‘চ্যাম্পিয়ন হবে নাকি রানার্স-আপ হবে সেটা বলতে পারব না। আমরা ভালো খেলতে চাই। ভালো খেলব। এরপর ফলাফল যা আসে।’ মারুফ কোনোভাবেই মুখ ফুটে বলতে রাজি না তবে পুলিশ ফুটবল এবার অনেক প্রস্তুতি নিয়ে ফুটবল মাঠে লড়াই করবে এটা বুঝা যায়। কোমর বেঁধে নেমেছে পুলিশের ঊর্ধ্বতন বিভাগ। পেশাদারি প্রথায় নিয়ে যাচ্ছে। নিজেদের আছে আবাসন ব্যবস্থা, মাঠ, আধুনিক সুইমিং পুল, জিম। পুষ্টিবিদের পরামর্শে খেলোয়াড়দের খাবার। ৩৫ ফুটবলারের মধ্যে ১৫ জন পুলিশে চাকরি করছেন আর বাইরে  থেকে নেওয়া হয়েছে ১৫ জন, সঙ্গে বিদেশি পাঁচ জন।