দশমিনায় উচ্চ ফলনশীল নারিকেল চাষে ঝুঁকছে কৃষক

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৪৭

সঞ্জয় ব্যানার্জী, দশমিনা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ছোটো জাতের নারিকেল চাষে কৃষকরা ঝুঁকছেন। অল্প জমিতে অধিক উত্পাদন ও লাভজনক হওয়ায় কৃষক ছাড়াও সাধারণ মানুষ উচ্চ ফলনশীল ছোটো জাতের নারিকেল চাষের দিকে আগ্রহী হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার হাটবাজারে বেশি মাত্রায় ডাব বিক্রি হওয়ায় নারিকেল গাছের ফলন কম হওয়ার পাশাপাশি বীজ প্রাপ্তির সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে। অধিক ফলন ও লাভজনক উফশী জাতের ফসল হিসাবে ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা ছোটো জাতের নারিকেল চারা নিয়ে আসা হয়। সারা বছর ফল উত্পাদনের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে এই খাটো জাতের নারিকেল চারা বিক্রি করা হয়। বাণিজ্যিকভাবে এই গাছের চারার প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বেড়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের মে মাসে উপকূলীয় উপজেলায় ছোটো জাতের নারিকেল চারা রোপণ ও সম্প্রসারণ কর্মসূচি শুরু হয়। বর্তমানে উপজেলার সর্বত্র এই চারা গাছ রোপণ করা হয়েছে।

উপজেলায় কৃষিতে পুরস্কার পাওয়া বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছানী গ্রামের কৃষক কাজী আনিসুর রহমান তার খামারে ৩০টির বেশি ছোটো জাতের নারিকেল চারা রোপণ করেন। তিনি আরো জানান, কৃষি কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী চারাগুলো যত্ন নেওয়ায় গাছ বেড়ে গেছে এবং ফুল আসতে শুরু করেছে।

উপজেলা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইকবাল মাহমুদ লিটন বলেন, তার খামারে ১৭০টির বেশি খাটো জাতের নারিকেল গাছের চারা রোপণ করেন। তার রোপিত গাছেও ফুল আসতে শুরু করেছে। উপজেলার সাত ইউনিয়নের মানুষই ছোটো জাতের নারিকেল চাষ করছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বনি আমিন খান জানান, ভিয়েতনামের ছোটো জাতের নারিকেল চারা রোপণে কৃষকসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ আগ্রহ আছে। তিনি আরো জানান, দেশীয় লম্বা জাতের নারিকেল গাছে ফুল আসতে সাত-আট বছরের অধিক সময় লাগে। অথচ ছোটো জাতের ভিয়েতনামের নারিকেল গাছ রোপণের তিন বছরের মধ্যেই গাছে ফুল ফুটতে শুরু করে। এই জাতের নারিকেল গাছ সব ধরনের মাটিতেই রোপণ করা যায়। নারিকেল গাছগুলো খাটো হওয়ায় পরিচর্যা করাও বেশ সহজ হওয়ায় সকলেই এই জাতের নারিকেল গাছ রোপণ করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।