ধসে পড়তে পারে যে কোনো সময়!

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৪৮

ভূঁইয়াগাতী সেতু

দুলতে থাকে যান

চলাচলের সময়

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ও রায়গঞ্জ সংবাদদাতা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের ভূঁইয়াগাতী সাবস্টেশনের অদূরে নির্মিত (১৯৬০-৬১ অর্থ বছরে নির্মিত) প্রায় ষাট বছরের প্রাচীন ৭৬ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যে কোনো সময় সেতুটি ধসে পড়তে পারে। ফলে প্রাণহানির আশঙ্কা ছাড়াও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে মানুষ দুর্ভোগে পড়বে। ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে যাতায়াত করছে যাত্রীবাহী দূরপাল্লার গাড়িসহ ভারী যানবাহন। জানা যায়, ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়েছে। যে কারণে পুরোনো ব্রিজটির পাশ থেকে মাটি উত্তোলন করায় ও দীর্ঘদিন ধরে মেরামতের অভাবে সেতুটি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে—সেতুর মাঝখানে উভয় স্প্যানের সংযোগস্থলে প্রায় দেড় ফুটের মতো দেবে গেছে। দুপাশের ভিমে দেখা দিয়েছে মারাত্মক ফাটল। কংক্রিট ভেঙে কঙ্কালের মতো বেরিয়ে পড়েছে ভিমের মরচে ধরা রড। সেতুর ওপর দিয়ে ভারী যানবাহন পারাপারকালে দুলতে থাকে সেতুটি, জানালেন পাশে কর্মরত শ্রমিকেরা। তারা অত্যন্ত আতঙ্কের মধ্যে ঐ ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর পাশে কাজ করছেন।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি আকতারুজ্জামান জানান, এই সেতুটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। অতিসত্বর মেরামত করা না হলে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আর এতে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তিনি আরো জানান, ১৫ টন ওজনের গাড়িগুলো বিকল্প সড়কে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, কয়েক দিন আগে যানজটে সেতুটির ওপর উভয়মুখী অনেক যানবাহন আটকা পড়ে। এতে সেতুটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অনেক চেষ্টার পর সড়ক ও সেতু যানজটমুক্ত হয়। এতে সেতুটি রক্ষা পায়। এরপর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেতুটি সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করছে, যাতে অতিরিক্ত ভারী যানবাহন ব্রিজটির ওপর দাঁড়াতে না পারে।

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সিরাজগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম প্রামানিক সেতুর অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ স্বীকার করে বলেন, সেতুটির নিচে কাজ করা ঝুঁকিপূর্ণ। বিকল্প রাস্তা নির্মাণ করে নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে। পাঁচ দিনের মধ্যে বিকল্প রাস্তা নির্মাণ করা হবে। বিষয়টি এরই মধ্যে জেলা প্রশাসন, হাইওয়ে থানা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ১৫ টনের বেশি ওজনের ট্রাক সেতু দিয়ে চলাচল না করতে বলা হয়েছে। এই সময় উল্লেখিত ওজনের ট্রাকগুলোকে বগুড়া থেকে নাটোর হয়ে বনপাড়া-হাটিকুমরুল হয়ে অথবা শেরপুর-কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ শহর হয়ে  বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে চলাচল করবে।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতাসংগ্রামের ঐতিহাসিক সাক্ষী এই সেতুর পূর্বাংশের একটি স্প্যান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ভেঙে ফেলা হয় ঢাকা-বগুড়ার মাঝে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য। পরে ১৯৭২ সালে ঐ অংশ পুনরায় নির্মাণ করা হয়।