স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর
দিনাজপুরে জেঁকে বসেছে শীত। তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির ফলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। এদিকে তীব্র ঠান্ডার কারণে খেটে-খাওয়া মানুষ পড়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়। আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়ার তাপমাত্রা আরো কমতে পারে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
দিনাজপুর শহরের শ্রমিকের হাট হিসেবে পরিচিত রয়েছে ষষ্টিতলা মোড়। এই মোড়ে সব শ্রেণির শ্রমিক দিন হাজিরা ভিত্তিতে কাজ করেন। ৬০ বছর বয়সের শফিউল ইসলাম জানান, ‘কি করিম বাহে। হামরা সারাদিন মানুষের ঠেনা (কাছে) কাজ করি, আর রাইতত (রাতে) বাজার করিয়া বাড়ি লই(নিয়ে) যাই। কিন্তু ঠান্ডার ঠেলা কোথাও ঠিকমতোন কাজ করিবার পারছু না। এইথেনা (এইখানে) বয়স্ক লোক দেখিলে কেউ কাজে নেবার চাহে না। আইজকা কোনো ঠেনা (কোথাও) কাজ না পাইলে মোর(আমার) পরিবার কিভাবে চলিবে।’
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক মো.আব্দুর রশিদ জানান, হিমালয়ের পাদদেশের জেলা হওয়ায় বৃহত্তর দিনাজপুরের তিনটি জেলা ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরে জেঁকে বসেছে শীত। শনিবার সকাল থেকে জেলায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। একই সঙ্গে তাপমাত্রা আরো কমতে পারে। কয়েক বছর আগে দিনাজপুর জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এবার শীতের তীব্রতা বাড়লে তাপমাত্রা ৫ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস নামতে পারে।
পীরগাছায় শীতের তীব্রতায় বেড়েছে ঠাণ্ডাজনিত রোগ
পীরগাছা (রংপুর) সংবাদদাতা জানান, রংপুরের পীরগাছায় গত কয়েক দিন থেকে শীতের তীব্রতা বাড়ায় ঠাণ্ডাজনিত রোগে শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে। দেখা দিয়েছে নিউমোনিয়া ও কোল্ড ডায়রিয়ার প্রকোপ। গত এক সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক শিশু নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা নিয়েছে।
রবিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত ১২ শিশুকে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। উপজেলার রামচন্দ্র গ্রামের সাড়ে তিন বছরের মিহাকে নিয়ে এসেছেন তার বাবা স্বপন মিয়া।
তিনি বলেন, হঠাত্ শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়েছে। তাই চিকিত্সার জন্য এখানে নিয়ে এসেছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. শাহ নেওয়াজ সৈকত বলেন, সম্প্রতি ঠাণ্ডাজনিত কারণে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এতে আক্রান্ত শিশু রোগীর চাপ বেশি। তবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা নিয়ে তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে।
