ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাশের পর থেকে বিভিন্ন রাজ্যে সহিংস বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। গতকাল দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পুলিশ আটক করেছে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে রেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতা যাতে ছড়িয়ে না পড়ে এজন্য পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। খবর:এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকার।
গতকাল রবিবার দুপুরে দিল্লির দক্ষিণে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সাধারণ জনতাও শিক্ষার্থীদের এই সমাবেশে যোগ দেয়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ থামাতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। লাঠিচার্জও করা হয়। সহিংসতা যাতে শহরের অন্য অংশে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য ওখলা আন্ডারপাস থেকে সরিতা বিহার পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এদিকে নাগরিকত্ব বিল পাসের পর গত তিন দিন ধরে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ। গতকাল শিয়ালদহ-বজবজ শাখার আক্রা স্টেশনে বিক্ষোভকারীরা ট্রেন লাইনে টায়ার ফেলে আগুন জ্বালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। পুলিশ বাধা দিলে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। এ ঘটনায় রেল পুলিশের অন্তত দুজন কর্মী আহত হয়েছেন। একইভাবে এদিন সকাল থেকে সহিংসতা চলে মালদহ-নিউ জলপাইগুড়ি বিভাগের ভালুকা রোড স্টেশনে। সেখানেও স্টেশনে ভাঙচুর এবং আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ফলে উত্তরবঙ্গগামী অধিকাংশ ট্রেনই বাতিল করা হয়।
অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর এবং হাওড়া জেলায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরো কয়েকটি শহরে ইন্টারনেট সেবা আপাতত বন্ধের কথা জানিয়েছে প্রশাসন। মমতার সরকার সহিংসতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের বারবার সতর্ক করলেও রাজ্যের বিজেপি প্রধান দিলীপ ঘোষ বলেছেন, সরকারের মদতে এসব সহিংসতা হচ্ছে। মানুষ যাতে প্রকৃত ঘটনা জানতে না পারে এজন্য ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করেছে মমতা তৃণমূল সরকার।
